মাগুরানিউজ.কমঃ
আলহাজ্ব গোলাম রব্বানী। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা। বয়স ৮২। স্বাধীনতার পর থেকেই মহম্মদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বারবার নির্বাচিত হয়েছেন।
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ সভাপতি পদে তার বিচরণ ৪২ বছর। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এবারের সম্মেলনেও তিনি সভাপতি পদপ্রার্থী।
অনুসারীরা মনে করেন, রব্বানীর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে এবারো তিনিই সভাপতি হতে চলেছেন। রব্বানীর ‘বিকল্প নেতা’ তৈরি না হওয়া এবং ঘরোয়া কোন্দলে নেতারা কোণঠাসা হয়ে থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে এমন পরিস্থিতি চলছে বলে মনে করেন দলটির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সর্বশেষ ২০০৪ সালের নভেম্বরের ২৩ তারিখ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এদিকে দীর্ঘ ১০ বছর পর ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য মহম্মদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো উত্তাপ বা আলোচনা দেখা যাচ্ছে না। তবে এই সম্মেলনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ না থাকলেও শঙ্কা রয়েছে নেতা-কর্মীদের মধ্যে। কারণ ঘরোয়া কোন্দল না মিটিয়ে ও ওয়ার্ড-ইউনিয়ন কমিটি না করে আয়োজন করা হয়েছে সম্মেলনের। আর সম্মেলনে আলোচিত ব্যক্তি এখন গোলাম রব্বানী। আগামী ২২ জানুয়ারি মহম্মদপুর হাইস্কুল মাঠে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ২৩ নভেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে গোলাম রব্বানীকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। প্রথম অবস্থায় দলীয় কর্মকাণ্ডে কিছুটা গতি থাকলেও বছরখানেক পর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে কর্মকাণ্ড ছন্দ হারায়। এরপর ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও গ্রুপিং, লবিং আর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সদিচ্ছার অভাবে এখনো নতুন কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।
আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে প্রতি তিন বছর পর সম্মেলন হওয়ার কথা। কিন্তু জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অনাগ্রহ, সাধারণ সম্পাদকের ও সভাপতির মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এবং দলীয় কোন্দলসহ নানা কারণে নতুন কমিটি করতে পারেনি দলটি। ঠিক একই কারণে সভাপতি গোলাম রব্বানীর বিকল্প নেতা তৈরি হয়নি।
জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, সভাপতি গোলাম রব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান যেমন তাদের পদ ছাড়তে নারাজ, তেমনি কাউকে এই পদে বিকল্প হয়ে উঠতে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। তাদের ধারণা, বিরোধী দলের সম্ভাব্য আন্দোলনকে সামনে রেখে দল চাঙ্গা করতে তড়িঘড়ি করে সম্মেলন করা হচ্ছে। এতে তৃণমূলের মতামত না নিয়ে আগের কমিটিই আবার বহাল করা হতে পারে।
জানা গেছে, মাগুরা সদরসহ শ্রীপুর, মহম্মদপুর ও শালিকা উপজেলায় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। তীব্র দলীয় কোন্দল থাকলেও তা সমাধানের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এই দীর্ঘ সময়ে নেওয়া হয়নি। এতে সম্মেলনকে ঘিরে দলীয় কোন্দল প্রকাশ্য হানাহানিতে রুপ নিতে পারে বলে দলটির নেতাকর্মীদের সংশয়।
দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা নেই উল্লেখ করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পদ প্রত্যাশী নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সম্মেলন করতে হলে প্রথমে সদস্য সংগ্রহ, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি করতে হয়। কিন্তু মাগুরার ক্ষেত্রে তা করা হচ্ছে না। উপজেলা পর্যায়ে অনেক নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মী দলের কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। তার পরও আমরা চাই সব ভেদাভেদ ভুলে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি কমিটি হোক।’
মহম্মদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রব্বানী বলেন, ‘দলের জন্য সারা জীবন কাজ করেছি। আমার চেয়ে ত্যাগী নেতা মাগুরা আওয়ামী লীগে আর নাই। অধিকাংশই সুযোগসন্ধানী। দলের সংকটময় মুহূর্তে কাউকে পাওয়া যায় না। কিছুসংখ্যক নেতা আছেন, যারা নিজেদের অনেক বড় নেতা ভাবেন। তারাই মূলত কোন্দল সৃষ্টি করতে চান।’
তিনি আরো বলেন, ‘নেতা-কর্মীরা চাইলে আবারো সভাপতি হব। ৮২ বছর বয়সেও আমি দলের হাল ধরার জন্য প্রস্তুত আছি।’
রব্বানীর কথায় তাল মিলিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই বলেছেন, রব্বানী ছাড়া মহম্মদপুরে কর্মকাণ্ড চালানোর মতো যোগ্য লোক নাই। যারা বিরোধিতা করে, তারা কেউ দলীয় কর্মকাণ্ডে নিয়মিত নন। দলের কোনো কাজে খরচও করতে চান না। এ কারণে সভাপতি হিসেবে রব্বানীর কোনো বিকল্প নেই।’


