মাগুরানিউজ.কমঃ
ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশের যত শিল্প রয়েছে তার মধ্যে মাটির তৈরি শিল্প অন্যতম এবং প্রাচীন শিল্প। বাংলাদেশের মৃৎশিল্পের মধ্যে শখের হাড়ি অন্যতম একটি শিল্প। আর শখের হাড়ির কথা আসলেই নাম আসবে মাগুরার।
মাগুরা অঞ্চলে ঐতিহ্যগতভাবে একসময় খুব বেশি পরিমাণে মাটির বাড়ি ঘর ছিল। মাটির ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ কাপড় রাখার জন্য ব্যবহৃত হত এই শখের হাড়ি। এখনকার মতো পূর্বে বাড়িতে আসবামপত্র খুব কম ব্যবহৃত হতো। পাটের দড়ি দিয়ে তৈরি ছিকায় করে মাটির বাড়ির ভেতরের অংশের চারিদিকে সাজিয়ে রাখা হতো শখের হাড়ি। মূলত এই সব শখের হাড়িগুলোতেই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এমনকি কাপড়ও রাখা হতো।
বিয়াই বিয়াইন বাড়িতে মিষ্টি নেবার কাজে পূর্বে শখের হাড়ি প্রচূর ব্যবহৃত হতো। কোন বাড়ি থেকে কত বেশি শখের হাড়িতে পিঠা, মিষ্টি বা অন্যান্য উপাদান নিয়ে যাবে সেটার উপর নির্ভর করতো ওই বাড়ির মান মর্যাদা। আগে তো আর রসগোল্লা, চমচম এইগুলো ছিল না। বিভিন্ন পুলি পিঠা রসের হাড়িতে ভরে বিয়াই বিয়াইন বাড়িতে নিয়ে যেত। আর এখন তো মোড়ে মোড়ে মিষ্টির দোকান তৈরি হয়েছে। কাগজের প্যাকেটে করে মিষ্টি নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে মাটির ঘরের বদলে স্থান করে নিয়েছে ইটের ঘর বা টিনের ঘর। আর শখের হাড়ির বদলে ঘরে স্থান করে নিয়েছে কাঠ, স্টিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র। মানুষজন প্রতিনিয়ত গাছ কেটে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখার জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র তৈরি করছে।


