মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরা সদরের শাহিদুল ইসলাম ৫টি গরু কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। ঈদের আর মাত্র একদিন বাকি। জানালেন, এখনো একটা গরুও বেচতে পারেননি তিনি। একই অবস্থা পৌর এলাকার গৃহস্থ জাকির হোসেনের। গরুগুলো বিক্রি করতে না পারলে নিশ্চিতভাবেই লোকসানের মুখে পড়বেন তারা। লাভের আশায় কোরবানির মৌসুমকে লক্ষ্য করে বাড়িতে গরু লালনপালন করেছেন এমন অনেক খামারি ও গৃহস্থের এখন রাতের ঘুম নষ্ট।
সদর উপজেলার মতিয়ার মিয়া নামে এক গৃহস্থ জানান, প্রায় ৫ মাস আগে ৭৫ হাজার টাকায় দুটি গরু কিনেছিলেন। আশায় ছিলেন, কোরবানির হাটে বিক্রি করে ভালো লাভ পাবেন। কিন্তু যে অবস্থা, তাতে আশায় গুড়ে বালি বলেই মনে হচ্ছে তার। তিনি বলেন, যে বাজারদর, তাতে যারা কোরবানির হাটের প্রতি লক্ষ্য রেখে গরু লালনপালন করেছেন তাদের অধিকাংশেরই লোকসান হবে।
মাগুরার কোরবানির পশুর হাট কর্তৃপক্ষ জানায়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে স্থানীয় খামারি ও গৃহস্থরা জেলায় চাহিদার তুলনায় বেশি গরু প্রস্তুত করেছেন। হাট ইজারাদার নূরে আলম দিপু বলেন, মাগুরার ১৮টি পশুর হাট থেকে ঈদের আগের দুই সপ্তাহ আগেই অন্তত ৬০ শতাংশ গরু-ছাগলই বেশি দামের আশায় জেলার বাইরে চলে যায়। কিন্তু এ বছর বাইরের জেলার বেপারিদের আনাগোনা নেই বললেই চলে। ফলে হাটে গরুর আমদানি বেশি। এতে করে গরুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাগুরা জেলায় গরু, ছাগল ও ভেড়া মিলিয়ে এ বছর গড়ে ১৫ হাজার ৮১৭টি পশু প্রস্তুত হয়েছে। ২০১৬ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ২৭৫ এবং ২০১৫ সালে ছিল ১০ হাজার ৯৪৫টি।


