মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার হাট-বাজারে প্রতি মন (৪০ কেজি) পাট ১২’শ টাকা থেকে ১৮’শ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দামেও চাষি খুশি নন। চাষিরা বলছেন, এ দামে পাট বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠছে না। হাট-বাজার গুলোতে পাটের আমদানি বাড়ছে। ভরা মৌসুম শুরু হয়ে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাগুরা অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার মাগুরা জেলায় ৪০ হাজার ৪৪০ হেক্টরে পাট চাষ হয়েছে। এ অঞ্চল এক সময় পাট চাষের জন্য বিখ্যাত ছিল। গড়ে উঠেছিল পাটের মোকাম। এক সময়ের সোনালী আঁশ কৃষকের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়ায়। চাষি পাট চাষ ছেড়ে অন্য ফসল চাষে ঝুঁকে। গত ৭-৮ বছর পাটের দাম একটু একটু করে চড়ে। ফলে চাষি ফের পাট চাষে ঝুঁকেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, প্রতি বছর পাট চাষ বাড়ছে। জুলাই মাসের প্রথম থেকে বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। বর্তমানে দাম একটু কমেছে।
চাষিদের কথা পাট চাষে খরচ অনেক বেড়েছে। এক বিঘা জমির পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও ধুতে ১০-১১ হাজার টাকা কামলা খরচ লাগছে। কামলার দৈনিক মজুরি চড়ে তিন বার খোরকিসহ ৬’শ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। তার উপর পাটের ফলন ভাল হচ্ছে না। বিঘা প্রতি ১০-১২ মন ফলন হচ্ছে, ফলে কৃষকের লাভ থাকছে না।
পাট ব্যবসায়ীরা জানান, মাগুরা জেলার লাঙ্গলবাঁধ, শ্রীপুর, গাংনালীয়া, খামারপাড়া, নাকোল, মগুরা সদর, শত্রুজিত্পুর, বিনোদপুর, মহম্মদপুর, শালিখা, আড়পাড়া, সীমাখালী প্রভৃতি মোকামে প্রচুর পাট উঠছে। প্রতি মন ১২’শ টাকা থেকে শুরু করে ১৮’শ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব পাট কিনে ব্যবসায়ীরা ফরিদপুর, যশোর, ঝিনাইদহ ও মাগুরার জেলায় গড়ে উঠা ছোট ছোট পাটকল গুলোর কাছে বিক্রি করছে। আবার কেউ কেউ খুলনার দৌলতপুরে চালান পাঠাচ্ছে।


