মাগুরানিউজ.কমঃ
বাবা রে…. গরমের তে বাচতি এট্টা মালাই খাচ্ছি। নাতি কিনে দেছে এই মালাই খান। কথাগুলো শুক্রবার দুপুরে মাগুরা সদরের ইছাখাদা অঞ্চলের বৃদ্ধা মতি বেগমের।
ভয়াবহ রকমের গরমে নাকাল মাগুরা শহররবাসী। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় পুড়ছে প্রকৃতি। তীব্র গরমে বেশ কিছুদিন ধরে পুড়ছে প্রকৃতি। শুক্রবার বিকাল ও সন্ধায় কিছুটা বৃষ্টিপাত হওয়ায় তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে এসেছিল। কিন্তু আজ আবারো তপ্ত হয়ে ওঠেছে বাতাস।
ঘাম ঝরানো গরমে ঘরে ঘরে নানা ধরনের অসুখ বিসুখে ভুগছেন শহরবাসী। বৃদ্ধ ও শিশুদের ত্রাহি অবস্থা। পানিশূন্যতাজনিত রোগবালাইতো বাড়ছেই, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, কাশি, জ্বর, গলা বসাসহ নানা ধরনের অসুখ।
এই গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায় শহরের শ্রমজীবী মানুষ। রিকশাচালকদের কষ্ট চোখে পড়ার মতো। তাদের মাথার ওপর থাকে না কোনো ছাতা বা মাথাল। সড়কে নেই কোনো বৃক্ষের ছায়া। কেবল গামছা দিয়ে মাথাটুকু ঢেকে তারা রিকশা চালান।
গরমে দুর্ভোগ পোহাতে হয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। খুব বেশি মালামাল না হলে ভ্যান বা রিকশাযোগে নিয়ে যেতে হয় তাদের। প্রচণ্ড গরমে মালামালের ওপর বসে মাথায় সামান্য গামছা দিয়ে রোদ থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন তারা। অপরদিকে রিকশাচালকও গরমে অতিষ্ট হয়ে খালি গায়েই রিকশা চালাতে বাধ্য হন। সুযোগ পেলে কাজের ফাঁকে কোনো স্থাপনা বা পার্কের বৃক্ষের ছায়া খুঁজে জিরিয়ে নেন তারা।
অতিমাত্রায় গরম এবং অসহ্য প্রকৃতি থেকে মুক্তি চান সবাই। সবকিছুই মাত্রা অতিক্রম করলে তা শাস্তি বা অত্যাচারের মতো মনে হয়। তাই তো সর্বার প্রার্থনা, প্রকৃতি যেন শীতল। স্বর্গের শান্তি যেন নেমে আসে পৃথিবীতে। কামনায় বাসনায় এগিয়ে চলে জীবন। প্রত্যেকটি প্রাণি কেবল মুক্তি খোঁজে। অপরিসীম মুক্তি, সীমাহীন শান্তি।
ছবি- সৌজন্য


