মাগুরানিউজ.কম:
মাগুরার শোলা শিল্পীদের তৈরী কদম ফুল ও ঝরা ফুলের মালার বিপুল চাহিদা মাগুরা ও আশেপাশের জেলাসহ খোদ রাজধানী ঢাকাতে। লক্ষ্মী পূজা ও কালি পূজাকে কেন্দ্র করেই প্রধানত শোলা শিল্পীরা এই মালা তৈরি করে থাকেন। তবে ঘট পূজা ও মাঘী পূর্ণিমায়ও এ মালা ব্যবহৃত হয়। লক্ষ্মী পূজাকে কেন্দ্র করে এ মালা ইতিমধ্যেই মাগুরা শহরের বিভিন্ন দোকান ও হাট-বাজারসহ রাজধানী ঢাকাতেও পৌছে গেছে।
জেলার শালিখা উপজেলার শতপাড়া, সান্দরা, শ্রীপুর উপজেলার বরালদাহ, সদর উপজেলার দরিমাগুরা, বাটাজোড়সহ অন্ততঃ ১০টি গ্রামে ফুলশোলার বিভিন্ন দৃষ্টি নন্দন সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা অর্জন করছেন অর্ধশতাধিক পরিবার। যাদের মধ্যে শতপাড়ার শংকর মালাকার ফুলশোলা শিল্পে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন।
শালিখার শতপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শংকর মালাকারসহ ৬টি পরিবারের পুরুষ, নারী ও ছেলে মেয়েরা নিজেদের পুরোপুরি সম্পৃক্ত করেছেন শোলা শিল্পের সঙ্গে। পূজা উপলক্ষে তারা কদম ও ঝরা দুই ধরনের মালা তৈরি করে থাকেন। প্রতিটি কদম ফুলের মালা শ্রেণি ভেদে বাড়ি থেকে পাইকারি ১০ থেকে ১২টাকা এবং ঝরা ফুলের মালা ৬ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি করা হয়। জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারি ক্রেতারা মালা কিনে নিয়ে যান। প্রতি বছর তারা ৫ থেকে ৬ হাজার মালা তৈরি করে থাকেন বলে জানান।তারা জানান, লক্ষ্মী পূজাতেই এ মালা বেশি বিক্রি হয়। বিশেষ করে এই পূজাকে কেন্দ্র করেই এ শিল্পকর্মটি বেঁচে রয়েছে। বংশ পরম্পরায় তারা এ পেশার সঙ্গে যুক্ত।
মাগুরা শহরের নতুন বাজারের পূজা সামগ্রী বিক্রেতারা জানান, পূজার উপাদান হিসেবে লক্ষ্মী দেবীর আসনের মাথার ওপর এই মালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। সনাতন ধর্মের রীতিতে বছরে দুই তিথিতে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক বাড়িতে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয় বলে এ মালার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শহরের বিভিন্ন দোকান ছাড়াও হাট-বাজারে এসব মালা বিক্রি হয়। নিয়মানুযায়ী দুর্গা পূজার ৫ দিন পর আজ বৃহস্পতিবার লক্ষ্মী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


