মাগুরানিউজ.কম:
দেখতে কাল হলেও ব্ল্যাক রাইস তার অন্তর্নিহিত গুণাগুণের কারণে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোতে। কুচকুচে কাল রঙের হওয়ায় একে ব্ল্যাক রাইস বলা হয়। অনেকে একে পৃথিবীর নতুন সুপার ফুডও বলে থাকে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাদ্য তালিকায় ব্ল্যাক রাইস প্রথম দিকে স্থান লাভ করছে।
কৃত্রিম খাবারের রঙের স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে ব্ল্যাক রাইসের কাল থেকে গোলাপী রঙের নিঃসৃত নির্যাস বর্তমানে খাবারের রঙের প্রাকৃতিক উৎস হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। পেট ও চামড়ার প্রদাহ এমনকি চামড়ার এলার্জি জনিত ডার্মাটাইটিস প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিভিন্ন ধরনের জাতের মধ্যে আঁঠাল জাতের সংখ্যাই বেশি দেখা যায়, তবে সুগন্ধিযুক্ত (জেসমিন ব্ল্যাক রাইস) কিছু জাতও দেখা যায়। অধিক পরিমাণ অ্যান্থোসায়ানিন এন্টিঅক্সিডেন্টস উপস্থিত থাকার কারণে এর রং কাল ও স্বাস্থ্যসম্মত হয়ে থাকে।
কাল রঙের রহস্য উদঘাটনের জন্য একদল জাপানি গবেষক ২১ জাতের ব্ল্যাক রাইসের ওপর গবেষণা চালিয়ে জানতে পারেন, বিশেষ একটা জিনের প্রাকৃতিক বিবর্তনের কারণে এতে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্থোসায়ানিন উৎপন্ন হয়। অন্যান্য জাতের ধানের চেয়ে এর ফলন বেশ কম (দশ ভাগের একভাগ) হওয়ায় উৎপাদনের জন্য বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করতে হয়। ইতোমধ্যে আমাদের দেশেও এর অল্পবিস্তর চাষাবাদ হচ্ছে। ইস্পাহানী আগমনী ব্ল্যাক রাইস নামে ইস্পাহানী এগ্রো লিমিটেড ইতোমধ্যে দেশে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে এর উৎপাদন করছে।
প্রাচীন চীনের সম্রাট এবং তার পরিষদবর্গ মনে করত ব্ল্যাক রাইস আয়ু বাড়াতে ও যৌবন ধরে রাখতে সহায়তা করে। তাই তারা এর প্রত্যেকটি দানা নিজেদের দখলে রাখতে চাইত। সাধারণ জনগণের জন্য ব্ল্যাক রাইস নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
ব্ল্যাক রাইসের বিদ্যমান অ্যান্থোসায়ানিন এন্টিঅক্সিডেন্টস স্মৃতি শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইহা রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতে অবদান রাখে। ব্ল্যাক রাইস উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ এবং ভিটামিন ই এর গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণ মিনারেলও থাকে বিশেষ করে আয়রন। গবেষণায় দেখা যায়, এক চামচ ব্লুবেরীতে যে পরিমাণ অ্যান্থোসায়ানিন থাকে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ এক চামচ ব্ল্যাক রাইসে থাকে।


