মাগুরানিউজ.কমঃ
২০১২ সালের এমনই এক দিন। সবকিছুকে হার মানিয়ে তখন নহাটার স্থানীয় জনতার মধ্যে বইছে আনন্দধারা। পুলিশের জন্য জনতা সেদিনের ঘটনা দৃষ্টান্ত তৈরী করেছিলো। এলাকায় পুলিশ কেন্দ্র স্থাপিত হতে যাচ্ছে, এবার হয়তো শান্তিতে রাতে ঘুমানো যাবে এমন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন এলাকাবাসী।
মহম্মদপুর উপজেলার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নের নাম নহাটা। নবগঙ্গা নদীপাড়ে এর অবস্থান। সীমান্তে অবস্থিত মাগুরা সদর ও নড়াইল জেলা। শত বছর আগে থেকেই নহাটা বাজার ব্যবসা বাণিজ্যের দিক দিয়ে উপজেলা সদরের থেকেও অগ্রগামী।
এক সময় নহাটা সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নহাটা ইউনিয়ন। দূরত্ব অধিক হওয়ার কারণে খুন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, সংঘর্ষ, দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ নানাবিধ অপরাধ দমন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় থানা পুলিশের রীতিমতো হিমশিম খেতে হতো। পড়তে হতো ভোগান্তিতে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুলিশ পৌঁছুত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর।
ফলে নহাটা বাজার ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারসহ সার্বিক দিক দিয়ে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
এলাকার শান্তির জন্য এই তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনে স্বউদ্যোগে ৭৫ শতাংশ জমি দান করেন স্থানীয় গৌর দে, হরিচাঁদ দে, তারক চাঁদ দে এবং হারান দে।
এ অবস্থায় ২০০৭ সাল থেকে চিঠি আদান-প্রদানের দীর্ঘ ৫ বছর পর অবশেষে ২০১২ সালে নিজস্ব জমিতে তৈরী শুরু হয় পুলিশ ক্যাম্প। নহাটাবাজার থেকে ২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে পানিঘাটা গ্রামে এই তদন্ত কেন্দ্র।
জনতা ও পুলিশের মেলবন্ধনে আজ নহাটা সন্ত্রাসের জনপদের সেই কুখ্যাতি থেকে বেরিয়ে এসে আজ আপন মহিমায় আলোকিত।


