মাগুরানিউজ.কম:
দেশের মহাসড়কগুলোতে গতি আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ উদ্দেশ্যে ১ হাজার ৭৫২ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। চার লেনের পাশাপাশি প্রতিটি সড়কেই থাকবে ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য পৃথক দুটি লেনও।
প্রথম ধাপে আগামী মাসেই শুরু হবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনে উন্নীত করার কাজ। এরপর পর্যায়ক্রমে বাকি সড়কগুলোর কাজও সম্পন্ন করা হবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং অন্যান্য দাতাসংস্থা ও সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে চার লেনে উন্নীত করা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে। ইতিমধ্যে ১ হাজার ৭৫২ কিলোমিটার সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই এবং পূর্ণাঙ্গ নকশা তৈরির কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা তৈরির কাজ পুরোটাই করা হয়েছে এডিবির অর্থায়নে।
আগামী কয়েক বছরে জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ২২৬ কিলোমিটার,
সিলেট-তামাবিল স্থলবন্দর সড়ক, দৌলতদিয়া-মাগুরা-ঝিনাইদহ-যশোর-খুলনা-মংলা পর্যন্ত ২১২ কিলোমিটার মহাসড়ক,
হাটিকুমরুল-রংপুর-বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত ১৫৭ কিলোমিটার মহাসড়ক এবং
টেকেরহাট-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে।
এ ছাড়া নোয়াখালীর সোনাপুর-সোনাগাজী-জোড়াগঞ্জ সড়ক আপগ্রেডেশনের কাজও সম্পন্ন করা হবে। দেশের মহাসড়কগুলো চার লেনে উন্নীত হলে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। যানজট ও দুর্ঘটনাজনিত ক্ষয়ক্ষতি তাতে অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতেও মহাসড়ক প্রশস্তকরণের প্রকল্পগুলো অবদান রাখতে সক্ষম হবে। কারণ এর ফলে সারা দেশে দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হবে। যানজটের কারণে পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয় তা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হবে।
চার লেনে উন্নীত সড়কগুলোর পাশে ধীরগতির যানবাহন চলাচলে আরও দুটি লেন তৈরির ফলে সে সব লেন দিয়ে অটোরিকশা জাতীয় স্বল্পগতির যানবাহন চলাচলের সুবিধা সৃষ্টি হবে। মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের নিরাপদ পরিবেশও তাতে নিশ্চিত হবে। আজকের যুগ হলো যোগাযোগের যুগ। যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন বাংলাদেশকে আরও একধাপ এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে বলে আশা করা যায়।


