‘দেশজুড়ে মাগুরার হাতপাখার বাতাস’– মাগুরাবাসি জেনে নিন (পর্ব-৪১)

মাগুরানিউজ.কমঃ

mnবিশেষ প্রতিবেদন-

আমরা মাগুরাবাসি, এতেই গর্ব অনুভব করি। গর্ব করার জন্য মাগুরা নামটাই যথেষ্ট, প্রয়োজন নেই কোনও গৌরচন্দ্রিকার। তাই কোনও সূচনা নয়, একেবারে ‘টু দ্য পয়েন্ট’, ‘মাগুরানিউজ’ জানাচ্ছে ( এই বিষয় নিয়ে প্রকাশিত ও স্বীকৃত তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে মাগুরা নিউজের তথ্য গবেষনা সেলের তৈরী এই প্রতিবেদন) এমন কিছু তথ্য আপনি প্রবাসেই থাকুন, মাগুরাতে থাকুন বা দেশের যেখানেই থাকুন আরো বেশি জানুন জানা-অজানা আপনার প্রিয় মাগুরাকে। শেয়ার করে সবাইকে জানতে সহযোগিতা করুন।

৪১তম পর্ব-

দেশজুড়ে মাগুরার হাতপাখার বাতাস।

মাগুরায় পাঁচ শতাধিক পরিবার তালের হাতপাখা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। বর্তমানে তারা পাখা তৈরিতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে। মাগুরা জেলার পাখাপল্লীতে প্রতি মৌসুমে প্রায় এক লাখ পাখা তৈরি হয়। মাগুরার তৈরি পাখা দেশের বিভিন্ন জেলায় চালান দেওয়া হয়। মাগুরা বর্তমানে তালের হাতপাখার মোকামে পরিণত হয়েছে। মূলত শীত মৌসুমে পাখাশিল্পীরা হাতপাখা তৈরি করে রাখেন এবং গরম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই হাতপাখা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

মাগুরার মাধবপুর, শত্রুজিৎপুর, নিজনান্দুয়ালী, বাটিকাডাঙ্গা, জগদল, শ্রীপুর উপজেলার জোকা, মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর, নহাটা ও শালিখার দুরশলই, গঙ্গারামপুর, পরিয়াট, রায়পুরসহ কমপক্ষে ১৫টি গ্রামে পাঁচ শতাধিক পরিবার পাখা তৈরি শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

শিল্পীরা প্রথমে তালপাতা কেটে রোদে শুকিয়ে নেন। তালপাখা তৈরিতে তালপাতা, বাঁশের শলাকা, কঞ্চি, সুতা-সুই ও রঙের দরকার হয়। প্রথমে শুকনা তালপাতা কয়েক ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে জাত দিতে হয়। জাত বা জাগ দেওয়া শেষে তালপাতা পানি থেকে তুলে বাঁশের কঞ্চির সাহায্যে কলম লাগিয়ে রোদে শুকানো হয়। এরপর ধারালো ছুরি দিয়ে গোল করে ছেঁটে আগে থেকে রং করে রাখা বাঁশের শলাকা দিয়ে সুই-সুতা বাঁধা হয়। পাখাকে আকর্ষণীয় করতে বিভিন্ন রঙের সুতা দিয়ে নকশা করা হয়ে থাকে। একজন পুরুষ শ্রমিক ১০০ পাখার কাজ করে মজুরি পান ৩০০-৪০০ টাকা। একজন পুরুষ শ্রমিক ‍দিনে সর্বোচ্চ ১০০টি পাখার কাজ করতে পারেন। পাখা বাঁধাইয়ের কাজ করেন মহিলা শ্রমিকরা। ১০০ পাখা কাজ করে মহিলা শ্রমিকরা মজুরি পান ২০০-৩০০ টাকা। একজন মহিলা শমিক ‍দিনে ৭০-৮০টি পাখা তৈরি করেন।

প্রতিটি তালপাতা থেকে দুটি করে পাখা তৈরি হয়। প্রতি পিস পাখা বর্তমানে ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাখাশিল্পীদের খরচ বাদে প্রতি পাখায় গড়ে ১০ টাকা করে লাভ থাকে। সে হিসেবে একজন পাখাশিল্পী দৈনিক ৩০০-৪০০ টাকা আয় করে থাকেন। চৈত্র মাস থেকে ভাদ্র মাস পর্য্ন্ত পাখার মৌসুম। পাইকাররা শিল্পীদের বাড়ি থেকে পাখা ক্রয় করে নিয়ে আসেন। বর্তমানে পাখাপল্রীতে পুরুষ মহিলা এবং শিশুরা দারুণ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

আগে এ অঞ্চলে পর্যাপ্ত তালপাতা পাওয়া দেলেও এখন আগের মতো পাতা মেলে না। দূরদূরান্ত থেকে পাতা কিনে আনতে হয়। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেল, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুরের বিভিন্ন গ্রাম থেকে পাতা কিনতে হয়। পাইকাররা বাড়ি থেকে সব পাখা কিনে নিয়ে যান। সে জন্য তাদের বিক্রি নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়তে হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
%d bloggers like this: