মাগুরানিউজ.কমঃ
আমরা মাগুরাবাসি, এতেই গর্ব অনুভব করি। গর্ব করার জন্য মাগুরা নামটাই যথেষ্ট, প্রয়োজন নেই কোনও গৌরচন্দ্রিকারও। তাই কোনও সূচনা নয়, একেবারে ‘টু দ্য পয়েন্ট’, ‘মাগুরানিউজ’ জানাচ্ছে ( এই বিষয় নিয়ে প্রকাশিত ও স্বীকৃত তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে মাগুরা নিউজের তথ্য গবেষনা সেলের তৈরী এই প্রতিবেদন) এমন কিছু তথ্য আপনি প্রবাসেই থাকুন, মাগুরাতে থাকুন বা দেশের যেখানেই থাকুন আরো বেশি জানুন জানা-অজানা আপনার প্রিয় মাগুরাকে। শেয়ার করে সবাইকে জানতে সহযোগিতা করুন।
৩৪তম পর্ব-
‘বর্ষবিদায়ের আয়োজন ও অষ্টকগান’
অষ্টকগান বাংলা বর্ষবিদায়ের আয়োজন হিসেবে মাগুরা, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, নড়াইল অঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রামে অষ্টক পরিবেশিত হয়ে থাকে। অষ্টক গানে মূলত শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধার প্রণয়লীলাবিষয়ক আখ্যান ও লোকপুরাণ অবলম্বনে গীতিনৃত্য পরিবেশিত হয়ে থাকে।
মাগুরা অঞ্চলে গ্রামের ছেলেরা এ ধরনের পরিবেশনাতে কৃষ্ণ, রাধা ও রাধা-সখী সেজে দুই দলে বিভক্ত হয়ে গীতিনৃত্য সহযোগে রাধা-কৃষ্ণের অষ্টক অভিনয় করে থাকলেও নড়াইল অঞ্চলে অষ্টক পালায় এখনো রাধা ও সখীর ভূমিকায় কিশোরী অভিনয় করে থাকে।
চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহে একদল কুশীলব কাঁধে হারমোনিয়াম ও খোল ঝুলিয়ে, করতাল হাতে নিয়ে কৃষ্ণ-রাধা ও তাঁদের সখী সেজে, পায়ে ঘুঙুর বেঁধে গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি গিয়ে কখনো বাইরের উঠানে, কখনো ভেতরের উঠানে অষ্টক পরিবেশন করে থাকে।
অষ্টক গান পরিবেশনার প্রথমেই থাকে সম্মিলিত বাদ্য বাদন। অষ্টক গান সূচনার আগে কোনো বাড়ির উঠানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাদ্যযন্ত্রীরা জনপ্রিয় একটি দেশাত্মবোধক গানের সুরে সম্মিলিত বাদ্য বাদন শুরু করে। সম্মিলিত সেই বাদ্য বাদন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে উঠানের এক পাশ থেকে কৃষ্ণ, রাধা ও তাঁর অষ্ট সখীরা দুই বাহু তুলে বাদ্যের তালে নাচতে নাচতে বাদ্যযন্ত্রীদের সামনের অভিনয় স্থানে এসে বৃত্তাকারে কয়েকবার প্রদক্ষিণ করে। তার মধ্যে সম্মিলিত বাদ্য বাদন শেষ হয়। আর অমনি কৃষ্ণ ও রাধাসহ সখীরা দুই দল বিভক্ত হয়ে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যায়। এরপর তারা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রাধা-কৃষ্ণলীলার কোনো একটি অংশের নৃত্যগীত পরিবেশন করে।


