এক বছরেই সতেরো থেকে সাতান্ন

 

মাগুরানিউজ.কমঃ

mnবিশেষ প্রতিবেদক-

এক বছরেই সতেরো থেকে বেড়ে সাতান্ন কিভাবে হলো? আশ্চর্য হবার কিছুই নেই, বাস্তবে এটাই হয়েছে বলে মাগুরার খামারিরা। এক বছরের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির বাচ্চার দাম বেড়ে তিন গুণ হয়েছে। খামারের অন্য আনুষঙ্গিক উপকরণের দামও বাড়তির দিকে। তবে উত্পাদন খরচের তুলনায় বাড়ছে না ব্রয়লার মুরগির দাম। এতে লোকসানে পড়েছেন মাগুরার খামারিরা। এরই মধ্যে অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে।

খামারিরা জানান, এক বছর আগে প্রতিটি একদিনের ব্রয়লার বাচ্চার দাম ছিল ১৭-১৮ টাকা। বর্তমানে যা ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একটি বাচ্চার এক মাসে খাবার লাগে তিন কেজি, যার বর্তমান বাজারমূল্য ১২৬ টাকা। ওষুধ, বিদ্যুত্ বিল, মজুরি মিলিয়ে খরচ হয় আরো ৩০ টাকা। এক মাস পর সেটির ওজন দাঁড়ায় ১ কেজি ৭০০-৮০০ গ্রাম। বাজারে এটি বিক্রি হয় ২০০ টাকার মতো। অথচ প্রতিটি বাচ্চার পেছনে খরচ হয় ২২০ টাকার বেশি।

লেয়ার মুরগির খামারে লোকসান হচ্ছে আরো বেশি। প্রতিটি লেয়ার বাচ্চা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। তিন মাস আগেও এর দাম ছিল মাত্র ৩২ টাকা।

মাগুরার সদর উপজেলার বেলনগর গ্রামের মো. ইয়াসির আরাফত ২০০৫ সাল থেকে পোলট্রি ফার্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে তার একটি লেয়ার খামারে ২ হাজার মুরগি এবং ব্রয়লার খামারে দেড় হাজার মুরগি আছে। তিনি বলেন, ‘গত তিন চালানে প্রায় ২ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। খামার কীভাবে চলবে— সেটা নিয়েই এখন ভাবছি।’

সদর উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের ফুলবাড়ি গ্রামের মো. কাটু মীর বলেন, বাচ্চার দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এককালীন বিনিয়োগ করতে হচ্ছে বেশি। কারণ একদিনের বাচ্চা কোম্পানির কাছ থেকে নগদ অর্থে কিনতে হয়। এমনকি দুই মাস আগে টাকা জমা দিতে হয়। ব্যবসায়ীদের কাছে খাবার ও ওষুধ বাবদ বকেয়া বাড়ছে। ভবিষ্যতে খামার বন্ধ করে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

শহরের পিটিআই সড়কের মাইশা পোলট্রি ফিড ঘরের মালিক আজাদ রহমান স্বপন বলেন, এরই মধ্যে জেলার ৫০ খামারি ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। তাদের কাছে অনেক টাকা বকেয়া রয়েছে। খামারিদের কারণে অন্য ব্যবসায়ীরাও এখন বিপাকে রয়েছেন।

একদিনের বাচ্চার দাম বৃদ্ধির বিষয়ে কাজী ফার্মের প্রতিনিধি মো. আওলাদ হোসেনের কাছে ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উত্পাদন থেকে চাহিদা বেশি থাকায় কোম্পাানি মুরগির বাচ্চার দাম বাড়িয়েছে।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কানাইলাল স্বর্ণকার বলেন, ‘মুরগির খাবার ও একদিনের বাচ্চার দাম প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত। কিন্তু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তা মেনে চলছে না। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
%d bloggers like this: