‘জানডা আর চলে না’

মাগুরানিউজ.কমঃ

mnশহর প্রতিবেদক-

দরিদ্র ভ্যানচালক মিন্টু। সোমবার দুপুর দেড়টায় মাগুরা ঢাকারোড থেকে ভ্যানগাড়িতে মালামাল তুলে বেরইলের উদ্দেশ্যে রওনা হবার জন্য তৈরী হচ্ছেন। রাস্তার পাশে ভ্যানগাড়িটি রেখে নিচু হয়ে দুহাত হাঁটুর ওপর চেপে ধরে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে থাকেন, কোমড় থেকে গামছার বাঁধন খুলে তা দিয়ে হাতমুখ মুছতে থাকেন। একটু বিশ্রাম নিয়ে অদূরেই চলমন একটি নির্মান কাজের জলের পাইপ দিয়ে তৃঞ্চা নিবারন করলেন। মিন্টুর সারা শরীর ঘামে ভিজে একাকার।

আলাপকালে মিন্টু জানান, ‘গরমে জানডা যেন শ্যাষ অইয়া যায়। জানডা আর চলে না।’

তিনি বলেন, ‘একলা শরীরে ভ্যানে ভারি মাল টানি। এই গরমের মধ্যে কিছুক্ষণ ভ্যানগাড়ি টানলে পা আর সামনে চলে না। দশ পনের মিনিট বিশ্রাম নিয়া আবার চালাতে হয়।’

কেবল ভ্যানচালক মিন্টু নন, চৈত্রের ক্রান্তি লগ্নে মাগুরাসহ সারাদেশের মানুষ গরমে অস্থির হয়ে উঠেছে। তাপমাত্রা এখন ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কোটা স্পর্শ না করলেও তীব্র দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। স্কুলে ছেলেমেয়েকে পাঠিয়ে ছুটি শেষে ঘরে ফেরা না পর্যন্ত চিন্তাগ্রস্ত থাকছেন অভিভাবকরা। রাস্তাঘাটে বের হলেই গায়ে ফোসকা পড়ার মতো অনুভূতি হচ্ছে।

বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পেশাজীবী; রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর ও শ্রমিকদের বেশি কষ্ট হচ্ছে।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে গরমে তৃষ্ণা দূর করতে মানুষ ফুটপাতের ডাব, কাঁচা আমের ভর্তা, লেবুর রস, আখের শরবত খাচ্ছেন। 

আতর আলী রোডে রিকশাযোগে যাচ্ছিলেন দু’জন ভদ্রমহিলা। হঠাৎ করে রিকশাচালককে থামিয়ে দুই গ্লাস ঠাণ্ডা বরফ মেশানো আখের রস কিনে খান। গরম কেমন পড়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তারা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন, গরমে ঘেমে অস্থির হয়ে উঠেছি। গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল বলে পথিমধ্যে রিকশা থামিয়ে আখের রস কিনে খাচ্ছি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
%d bloggers like this: