মাগুরানিউজ.কমঃ
আমরা মাগুরাবাসি, এতেই গর্ব অনুভব করি। গর্ব করার জন্য মাগুরা নামটাই যথেষ্ট, প্রয়োজন নেই কোনও গৌরচন্দ্রিকারও। তাই কোনও সূচনা নয়, একেবারে ‘টু দ্য পয়েন্ট’, ‘মাগুরানিউজ’ জানাচ্ছে ( এই বিষয় নিয়ে প্রকাশিত ও স্বীকৃত তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে মাগুরা নিউজের তথ্য গবেষনা সেলের তৈরী এই প্রতিবেদন) এমন কিছু তথ্য আপনি প্রবাসেই থাকুন, মাগুরাতে থাকুন বা দেশের যেখানেই থাকুন আরো বেশি জানুন জানা-অজানা আপনার প্রিয় মাগুরাকে। শেয়ার করে সবাইকে জানতে সহযোগিতা করুন।
৩০তম পর্ব-
‘হারিয়ে গেছে তাই না জানলেই নয়’
বাংলাদেশের সব জেলার আঞ্চলিক ভাষার মতই মাগুরা জেলার ভাষায়ও অঞ্চল ভেদে তারতম্য লক্ষ করা যায়। সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় মাগুরা জেলার উপজেলাভিত্তিক আঞ্চলিক ভাষাও রয়েছে।
কালের বিবর্তনে আঞ্চলিক ভাষা পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। নিম্নে মাগুরা ও সংলগ্ন এলাকার কিছু আঞ্চলিক ভাষা দেয়া হলো যে গুলোর অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্তির পথে।
আউড়ি (বি)- ধান রাখার গোলা। আড়োং (বি)- নারকেলের মালার তৈরি চামচ। অপাই (বিণ)– অপয়া। অবোগগা (বি)- অবহেলা।অযোমমা (বিণ)- অজম্মা। অরমুকতালে- (বিণ) অলস। আধমদদা (বিণ)- যে মেয়েলী চালে চলে। আলটা (বি.)- ঢেকি ছাটা চালের মধ্যে আসত্ম ধান। উযোশুযো (বি.)- সোজাসুজি, উড়োদড়ি (বি.)- খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করার জন্য ব্যবহৃত রশি। উড়োপোকা(বি)- মাছি। এ্যাকশাড়ে (বিণ)- যে মিশুক নয়। ওকি (সর্ব.)- ওকে। ওকেডা- (সর্ব)- সে কে। কওর (বি.)- বাঁশের তৈরী ঝাঁপ।কচন দেয়া (ক্রি)- মার দেয়া। কচাকচ (অব্য.)- তাড়াতাড়ি। কচকাচি (বি.) ঝগড়া। কদমে (বি.) কুমড়ো তরকারি। কমিনদে(ক্রি.)- কোন পথ দিয়ে । কাঁচড়া (বি.)- হাতে পাকানো মোটা দড়ি। কাড়া করা (ক্রি.)- ঢেঁকি দ্বারা চাউল কাড়া। কালি (বি.)- পেয়াজের ফুল। কাশন (বি.)- এক প্রকার তরল রস। কিরাম (বিণ.)- কি রকম। কুচে (বি.)- সাপের মত মাছ। কুচলোনি (বি.)- তীব্র বাসনা। কুতকুত করা (ক্রি.)- ইতস্ততঃ করা। কেনদল (বি.)- বাশনির্মিত দন্ড। দেনদাল (বি.)- খড় নাড়ার লাঠি, খাপাশি(বি.)- খুনতি। খুনখুনে (বি.)- বাঁশের তৈরী মাছ ধরার অস্ত্র বিশেষ। গড়মারা (ক্রি.)- সর্বনাশ করা। গাবাওয়া (ক্রি.)- বিরক্ত করা।গোংড়া (বিণ.)- বোকা, গোবোদ (বিণ.) বোকা। ঘাপ (ক্রি.)- চুপচাপ। ঘুনি (ক্রি.)- ছোট মাছ ধরার যন্ত্র বিশেষ। চিতেই পিঠা(বি.)- এক প্রকার পিঠা। ছেমড়ি (বি.)- মেয়ে। ছেমড়া (বি.)- ছেলে। ছওয়াল (বি.)- ছেলে। ছুরাণী (বি.)- চাবি। ছই (বি.)-ঢাকনা। ছ্যাচড়া (বিণ.)- কৃপণ। জাউ (বি.)- খাদ্য সামগ্রী বিশেষ। যামোই (বি.)-জামাই। যিয়েল মাছ(বিণ.) – শিংমাছ।যুরোমাছ (বিণ.)- ছোট মাছ। ঝাই (বি.) গুড় তৈরির উপকরণ, ঝাঝরি (বি.)- মাখন তোলার বাঁশের যন্ত্র। ঝিনেই (বি.)-ঝিনুক।টংক (বিণ.)- শক্ত। টাহা (বি.)-টাকা। টোংগা (বি.)- আম পাড়ার থলে। ডাশা (বি.)- চমৎকার। ডুগা (ক্রি.)- পাটের তৈরি রশি।ডুয়া (বিণ.)- ঘরের চারাদিকের উচু মাটির সিড়ি। ঢক (বি.)- কাঠামো। ঢলতা (বি.)- মাপে অতিরিক্ত । ঢালুন (বি.)- গাভী দোহনের মাটির পাত্র বিশেষ। তারা বাইন (বি.)- মাছ বিশেষ। তুমার (সর্ব.)- তোমার। ত্যালোটাকি (বি.)-মাছ বিশেষ। দয়াকেলা(বি.)- বীচিপূর্ণ কলা। দুড়ে (বি.)- মাছ ধরার যন্ত্র। ধাপড়া পিঠে (বি.)- পুরুপিঠে। নয়ানযুনি (ব.)- রাস্তার দু’পাশের জলাশয়। নস(বি.)-রস। নাংগা (বি.)-লাল। নাহাড়ি (বি.)-ভাত তরকারি নাড়বার কাঠের হাতা বিশেষ। নিরবংশা (ক্রি.)-বংশ নিপাত।ন্যাতোড় (বি.)- আবর্জনা। ন্যাহাপড়া (বি.)-লেখাপড়া। প্যাচাল পাড়া (ক্রি.)- বেশি কথা বলা। পাতো (বি.)- ধানের চারা।ফয়তা (বি.)- মৃত ব্যক্তির দোয়ার জন্য ভোজ। ফাইল (বি.)- চেরা কাঠ খন্ড। ফিরানি (বি.)- বরপক্ষ আগত কুটুম্ব। বাশনা (বি.)- সুগন্ধ। বাইক (বি)- সাইকেল। বুনাই(বি.)-ভগ্নিপতি। বুনডি (বি.)- বোন। ব্যাশকম (বি.)-পার্থক্য। ভদভদ করা (ক্রি.) অনাবশ্যক কথা। ভাংগাড় (বি.)- মাঠ। ভাতো টাকি (বি.)-মাছ বিশেষ। ভাদামে (বিণ.)-অকেজো। ভারাসে (বিণ.)-অসময়ে উৎপন্ন।শতালো (বিণ.)-বৈমাত্রেয়। শেরে রাখা (বি.)- লুকিয়ে রাখা। সয়লাবি (বি.)- ইয়ারর্কী। সিঁচ-গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। সোলম (বি.)- বাতাবী লেবু। হাবড় (বি.)- কাদা। হাগড়া (বি.)-নদীর ধারের এক প্রকার গাছ।


