ঈদে মাগুরার খেটে খাওয়া মানুষের ঘরে ফেরা: বাসের ছাদে ৩০০, দাঁড়িয়ে গেলে ৫০০

মাগুরানিউজ.কমঃ

mn

আর মাত্র একটি বা দুটি রোজা রয়েছে। আগামীকাল শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে শনিবার ঈদ। আর যদি তা নাই-ই হয় তো রোববার ঈদ নিশ্চিত। বিশেষ এই উৎসবটিকে আরো আনন্দময় করতে সবাই ছুটছেন স্বজনদের কাছে, নাড়ির টানে বাড়িতে। যে করেই হোক ঈদের আগেই পৌঁছতে হবে নিজের ভিটেতে।

ঈদ মানেই যেমন আনন্দ, ঈদ মানেই তেমনি বাড়ি ফেরার চ্যালেঞ্জ। আর তাই যে যেভাবে পারেন প্রাণপণে ছুটতে থাকেন। কিন্তু এই ছোটার সমাপ্তি কখন হবে, সেটা জানেন না কেউ।

প্রতি ঈদেই দেখা যায়, ঘরে ফেরা মানুষেরা পথে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে গাড়ির টিকেট না পেয়ে অনেকেই পড়েন অথৈ সাগরে। অনেকেরই বাড়ি ফেরা হয়ে যায় অনিশ্চিত। বাস, ট্রেন বা লঞ্চের টিকিট যারা পান না,বাধ্য হয়ে তাদের বিকল্প চিন্তা করতেই হয়। সেক্ষেত্রে দেখা যায়, বিপুল সংখ্যক যাত্রী তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা শুরু করেন।

পর্যাপ্ত পরিবহনের অভাব থাকায় এই সুযোগটিকে কাজে লাগান পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবহনগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়ার দৃশ্য এদেশে নতুন কিছু না। জরিমানা, মামলা দিয়েও এ পরিস্থিতিকে সামাল দেয়াই যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার ঢাকার অন্যতম বাস টার্মিনাল গাবতলীতে গিয়ে মাগুরানিজের প্রতিনিধি দেখতে পান অতিরিক্ত যাত্রী বাসে তোলার পরিচিত দৃশ্য। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত যাত্রীদের খুব একটা ভিড় না থাকলেও দুপুরের পর থেকে দৃশ্যপটে পরিবর্তন আসতে শুরু হয়। বিকেল ৪টা নাগাদ গাবতলীতে যাত্রীসংখ্যা সকালের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়ে যায়। হাতে টিকিট পেয়ে কারো কারো চোখে সোনার হরিণ পাওয়ার আনন্দ দেখা গেলেও যারা খুব চেষ্টা করেও টিকিট পাচ্ছেন না তাদেরে ভোগান্তির যেন কোনো সীমা নেই।

টিকিটের অপ্রতুলতা থাকলেও যাত্রীদের আকৃষ্ট করতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি করছেন না পরিবহন শ্রমিকেরা। সুযোগ বুঝে ভাড়াটাও বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা। বাসের আসন বিক্রি হয়ে গেলে দেয়া হচ্ছে ইঞ্জিনকভারে বসে যাত্রার সুযোগ, পুরো রাস্তা দাঁড়িয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও দেয়া হচ্ছে। আর এভাবে যাত্রার জন্য যাত্রীদের কাছে চাওয়া হচ্ছে ৫শ টাকা করে।

এছাড়া বাসের ছাদেও যাত্রী তুলতে কোনো দ্বিধা করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। ছাদে যাত্রার জন্য নেয়া হচ্ছে ৩শ টাকা করে।

বেশি লাভের আশায় পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বাসের ছাদে যাত্রী তুললেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে উঠতে যাত্রীদের খুব একটা দ্বিধান্বিত মনে হয়নি। বরং বেশ আগ্রহ নিয়ে জীবন বাজি রেখেই তারা ছাদে উঠতে আগ্রহী।

মাগুরার উদ্দেশে রওনা দেয়া মো. ফজলু নামে ছাদের এক যাত্রী বলেন, ‘গাড়িতে সিট নাই, ইঞ্জিনকভারও বুক। ৫০০ টাকা দিয়ে দাঁড়ায় যাওয়ার থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে ছাদে যাওয়া অনেক ভালো। বসে থেকে যাওয়া যাবে।’

মনোয়ার বলেন, ‘কোন গাড়িতেই টিকেট নাই। আজকে না গেলে ঢাকাতেই ঈদ করতে হবে। ঢাকায় কই থাকবো? এখানে আমার কেউ নাই। তাই যত কষ্টই হোক বাড়ি যাওয়াই লাগবে। মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করতে চাইলে এই কষ্ট সহ্য করতেই হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: