মাগুরানিউজ.কম:
চুরির সময়ে চোরদের সনাক্ত করে পুলিশকে জানানোর অপরাধে মাগুরা সদরের ঘোষপাড়ার স্থানীয় কয়েকজন যুবক মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মালতি শীল নামে এক গৃহবধুকে গাছের সঙ্গে বেধে নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘোষপাড়া গ্রামের চঞ্চল বিশ্বাস, মালেক বিশ্বাসসহ আরো অনেকে অভিযোগ করে বলেন, দিন পনের আগে রাতে রতনের বাড়ি থেকে একটি গরু ও একটি ছাগল চুরি হয়ে যায়। কিন্তু চুরির সঙ্গে জড়িতদের চিনতে পেরে ঘটনার পরদিন রতন শীল মাগুরা থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ করে। এতে ওই গ্রামের ভরত, সুজন, স্বপন, রাজকুমার, অসিম, শ্যামাপদ ঘোষসহ আরো কয়েকজন যুবক রতন ও তার স্ত্রীকে মারধর করে। এ সময় এলাকবাসীর হস্তক্ষেপে তারা নিবৃত হলেও রতন শীলকে ধরে নিয়ে যায়। ওই ঘটনার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে মালতি এই বিষয়েও পুলিশের কাছে অভিযোগ করায় তারা নতুন করে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। যার জের হিসেবে শুক্রবার বিকেলে ছাগলে সবজি ক্ষেত নষ্ট করেছে এমন অভিযোগ এনে তারা মালতিকে বাড়ি থেকে ধরে মারধর করতে করতে বেশকিছু দূরে নিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেধে নির্যাতন চালায়। মালতির উপর নির্যাতনের খবর গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
এদিকে রাতে উদ্ধার করে সদর থানায় নেওয়ার পর মালতি বলেন, তারা আমার গরু, ছাগল ধরে নিয়ে গেছে। ফেরত তো দেয়নি। আমার স্বামীকে মারতে মারতে ধরে নিয়ে গেছে। এরপর আর সে বাড়িতে ফিরে আসেনি। তার উপর শুক্রবার বিকেলে তারা আমাকে হাত-পা বেঁধে কাদা পানির মধ্যে টেনে নিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন করেছে।
এ বিষয়ে মাগুরার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মালতীকে উদ্ধার করে।পাশাপাশি সুজন ও অসিম নামে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।


