মাগুরানিউজ.কমঃ
রোজা ৩০টি হওয়ার খবরে (যদিও চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল) খুশি হয়েছিলেন ফুটপাতের দোকানি আবদুল মমিন মিয়া। স্বপ্ন দেখেছেন আরো একদিন বেশি দোকান করা যাবে। কারণ ঈদের একদিনে বাকি ১০ দিনের চেয়ে বেশি বেচা-কেনা হয়। তবে বৃষ্টিতে ভেসে যায় মমিন মিয়ার সে স্বপ্ন। তবুও মমিন আশাবাদী, বৃষ্টি থামবে। বেচা বিক্রি হবে।
পোষ্ট অফিসের পাশে দোকান করেন মমিন। প্রায় সারা বছরই খোলা থাকে তার প্যান্ট শার্টের দোকান। মমিনের দোকানের ক্রেতা বলতে স্কুল কলেজ পড়ুয়া নিম্নমধ্য বিত্ত পরিবারের ছেলেরা আর নিম্ন আয়ের মানুষজন।
আজ সকালে দেখা যায় উপর্যুপুরি বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে মমিনের দোকানের মালামাল। কোনোরকম মোটা পলিথিন দিয়ে মালামাল ঢেকে, দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।
বেচা-বিক্রি কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে একরাশ হতাশা ছেড়ে বলেন, ‘ঈদ একদিন পরে হবে (৩০টি পূর্ণ) জেনে খুব খুশি হইছিলাম। ভাবছিলাম আরেকদিন ব্যবসা করা যাবে। সকাল থেকেই মেঘ বৃষ্টি, থামছে পড়ছে।
সকাল থেকে কয়েকজন ক্রেতা এসেছিলো তার দোকানে কিন্তু বিক্রি হয়নি। কেউ এসে দেখে চলে গেছেন। কারো সঙ্গে দামে মেলেনি। মমিন মিয়া বললেন, ‘এখন সবাই বাড়ি যাচ্ছে। যাওয়ার সময় চোখে পড়ছে, দেখে যাচ্ছেন।’ তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা বাড়বে বলেই বিশ্বাস মমিন মিয়ার। নিজের হাতে আর কিছু নাই তার। আক্ষেপ করে বললেন, ‘বৃষ্টি থাকলে তো আর হবে না। তবে এও আল্লাহর ইচ্ছা।
তবে বৃষ্টির কারণে হতাশ সবাই। আজ বৃষ্টি থামবে কি না? বেচা-বিক্রি হবে কি না এ নিয়ে আছে তাদের চরম অনিশ্চয়তা।
প্রায় এক ঘণ্টার আলাপচারিতায় দেখা যায় বিক্রি শূন্য প্রতিটি দোকান। ঝুম বৃষ্টি ঝড়ছে। দোকানিরা পলিথিন দিয়ে দোকান ঢেকে বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ চলে গেছেন। অতিবর্ষণের কারণে কোনো কোনো দোকানির ওপর ‘খাড়ার ওপর মরার ঘাঁ’ নেমেছে।
ওপরে দেয়া পলিথিনে বৃষ্টির পানি জমতে জমতে পলিথিন ছিড়ে পানি পড়তে থাকে দোকানের ওপর।


