মাগুরানিউজ.কম:
‘মাঠ কাঁপানো ফুটবলার ছিল তরুণ রাজিব (১৮)। পুরো নাম রাজিবুল ইসলাম মুসল্লি। চারদিক ছড়িয়ে পড়েছিল রাজিবের নাম। ঢাকা মোহামেডানের জুনিয়র টিমে খেলতেন তিনি। জাতীয় দলে খেলা ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। সড়ক দুর্ঘটনা তার সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দেয়।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দে বাস-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোযাত্রী রাজিব নিহত হন। এ ঘটনায় চালকসহ আরো দুইজন মারা যান। এতে রাজিবের বন্ধু ফুটবলার বিজয় (১৮) ও বিপুল গুরুতর আহত হন। অটোরিকশায় করে তারা মানিকগঞ্জে ফুটবল ম্যাচ খেলতে যাচ্ছিলেন।
নিহত রাজিবের বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার সদরে। তিনি ওই এলাকার তোতা মুসল্লির ছেলে।
রাজিবের মা বেবী খাতুন বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার মনি কতো মা আর দ্ইু বছর অপেক্ষা কর। তোমাগের কোনো অভাব থাকবে না। আমি ফুটবল খেলে অনেক টাকা আয় করব। তোমাগের জন্য নতুন ঘর তুলে দেব।’
রাজিবের বাবা তোতা মুসল্লি বলেন, ‘আমার মনিরে আমি গোপনে ভালো খাবার খাওয়াতাম। ভালো না খালি খেলবি কেমনে। সারা দেশে খেলতি যাতো। খেলা হলি তারে হায়ের করে নিয়ে যেত। খেলে আমার হাতে টাকা দিতো। লোকজন কতো আপনার রাজিব বড় প্লেয়ার হবি। আমার সব শেষ হয়ে গেল।’ মহম্মদপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান কাবুল বলেন, রাজিব তরুণ সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় ছিল। তিনি ঢাকা মোহামেডান ক্লাবের জুনিয়র টিমে কয়েক মৌসুম নিয়মিত খেলছিলেন। সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন রাজিব। বাফুফের হয়ে স্কুল ও বয়সভিত্তিক বিভিন্ন টুর্নামেন্টে তিনি অংশ নেন।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজবাড়ি সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের মজলিশপুর এলাকায় বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুজনসহ তিনজন মারা যান।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ফুটবলার রাজিব ও গোয়ালন্দ উপজেলার কুমড়াকান্দির এলাকার বেলায়েত হোসেনের ছেলে অটোরিকশাচালক সাগর বিশ্বাস (৩৫) এবং অজ্ঞাত আরো একজন।


