মাগুরানিউজ.কম:
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার তেলিপুকুর গ্রাম এখন দোহারের গ্রাম নামে খ্যাত। গ্রামের চার শতাধিক পরিবারের নারী-পুরুষ এ পেশার সঙ্গে জড়িত। এটাই তাদের জীবিকা। এমনকি শিশুরাও জড়িত এ কাজের সঙ্গে।
বর্ষা ও শরৎকাল হচ্ছে দোহার তৈরির মৌসুম। তাই তেলিপুকুর গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে এখন দোহার তৈরির ধুম চলছে। পরিবারের পুরুষরাই সাধারণত এটি তৈরি করে থাকেন। তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করে থাকেন নারী ও শিশুরা। তৈরির প্রধান উপকরণ বাঁশ ও সুতা।
এ পেশার সঙ্গে জড়িত কারিগরেরা বলেন, একটা দোহার তৈরিতে গড়ে খরচ হয় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। তারা মহাজনের নিকট বিক্রি করেন ৯০ থেকে ১১০ টাকা। মহাজনরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তা বিক্রি করেন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। বর্তমানে বাঁশের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। অন্য উপায় না থাকায় পেটের দায়ে এবং বাপ-দাদার পুরনো পেশা ধরে রাখার জন্য সামান্য লাভেই মহাজনের নিকট দোহার বিক্রি করতে হচ্ছে।
কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দোহার বুননই তাদের একমাত্র পেশা। এ গ্রামের অধিকাংশ মানুষের কোন চাষের জমি না থাকায় তারা প্রায় বহু বছর ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িত।
মহম্মদপুরের তেলিপুকুর গ্রামের এ দোহার রপ্তানি হচ্ছে গোপালগঞ্জ, খুলনা, যশোর, শরিয়তপুর, মাদারিপুর, রাজবাড়ি, পাংশা ও কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। আবার এ গ্রামের যাদের দোহার তৈরির উপকরণ কেনার সামর্থ্য একেবারেই নেই তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে দোহার তৈরি করে দিনে ৪-৫শ টাকা হাজিরা হিসেবে উপার্জন করে সংসার চালিয়ে থাকেন।
তবে এখানকার অধিকাংশ কারিগর অভিযোগ করে বলেন, মহাজনরা তাদের কাছ থেকে খুব কম দামে দোহার কিনে অধিক মূল্যে বিক্রি করে থাকেন। এতে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতি একেবারেই নগণ্য। শিক্ষকরা বলেন, স্কুলে ভর্তি থাকা সত্ত্বেও ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবছর এ সময় দোহার তৈরিতে অধিকাংশ সময় মা-বাবাকে সাহায্য করে। ফলে তারা নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত হতে পারে না।


