মাগুরায় পানির জন্য কোটি টাকা পানিতে! পিছু ছাড়েছেনা আর্সেনিক

মাগুরানিউজ.কম:

mn

মাগুরায় আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করার লক্ষে বাস্তবায়িত ‘বাংলাদেশ রুরাল ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রকল্প’ ছয় মাস পূর্ব নির্মাণ কাজ শেষ হলেও আজও পানি সরবরাহ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ব্যবহৃত না হওয়ায় ঘন জঙ্গলে আচ্ছাদিত হয়ে আছে পাম্প স্টেশন।  নষ্ট হচ্ছে এর মূল্যবান যন্ত্রপাতি। কোন কাজে আসছে না মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদর ও বিনোদপুর ইউনিয়ন সদরে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি সরবরাহ প্রকল্প। ফলে প্রকল্পের পুরো টাকাটাই নষ্ট হবার পথে। 

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে  ‘বাংলাদেশ রুরাল ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পে স্পন্সরের মাধ্যমে  গ্রামে আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করার কথা রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য  প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে মহম্মদপুর উপজেলার ষাট ভাগ নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া যায়। জরিপকারী সংস্থা আর্সেনিকযুক্ত নলকূপগুলো লাল রঙ করে চিহ্নিত করে। এক সময় লাল রঙও উঠে যায়। এসব নলকূপের পানি পান বিপজ্জনক হলেও বিকল্প উৎস না থাকায় নিরুপায় মানুষ এই পানিই পান করছেন। এতে আর্সেনিক আক্রান্ত হচ্ছেন লোকজন।

২০১৪ সালের জুন মাসে সরকার ‘বাংলাদেশ রুরাল ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রকল্পে’র আওতায় গ্রামে আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেয়। মহম্মদপুর ও বিনোদপুর ইউনিয়ন সদরে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। প্রকল্পে  মাটির নিচ দিয়ে আট কিলোমিটার পানি সরবরাহ পাইপ, ১০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন দুটি রিজার্ভ  ট্যাঙ্ক ও দুটি পাম্প স্টেশন স্থাপন করা হয়।

পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ চলাকালে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠে। পরে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে  ঠিকাদার কাজ শেষ করে বিল তুলে নিয়ে যান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাজ শেষ হওয়ার ছয় মাস পার হলেও গ্রাহকপর্যায়ে পানি সরবরাহ করতে পারেনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ। মহম্মদপুর সদরের পাম্প স্টেশনটি এখন ঘন জঙ্গলে ঢেকে আছে। মাটির নিচ দিয়ে পানি সরবরাহ পাইপের নিয়ন্ত্রণ সুইচের ঢাকনা ভেঙে গেছে। অনেক জায়গায় পাইপে ফাটল দেখা দিয়েছে। নষ্ট হচ্ছে রিজার্ভ ট্যাঙ্ক ও পাম্প স্টেশনের মূল্যবান যন্ত্রপাতি।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি গ্রাম কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সভাপতি হন স্থানীয় সরকার দলীয় দুই নেতা। পানি সরবরাহ সংযোগ, পাম্প ও রিজার্ভ ট্যাঙ্ক রক্ষণাবেক্ষণ, পাম্পচালকের বেতন ও বিদ্যুৎ বিল কমিটি পরিশোধ করবে। গ্রাহকরা নিজ খরচে সংযোগ নিয়ে প্রতিমাসে কমিটির কাছে নির্দিষ্ট হারে বিল পরিশোধ করবেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছয় মাসেও এই কমিটি কাজ শুরু করতে পারেননি। প্রচারের অভাবে অধিকাংশ এলাকাবাসী এ ধরনের প্রকল্পের কথা জানেনই না

মহম্মদপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান বলেন, ‘নিরুপায় হয়ে এলাকার অনেক মানুষ আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে। টাকা খরচ হলেও বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি আমরা।’

মহম্মদপুর পানি সরবরাহ প্রকল্পের সভাপতি সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাাদক কোরবান আলী জানান, ‘গ্রাহক নিজ খরচে পানির সংযোগ নিতে চান না। তারপরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

মাগুরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী উমা পোদ্দার জানান, চরম লোকবল সংকটে ধুঁকছে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ। সারা জেলার দায়িত্ব তিনি একা পালন করছেন। তারপরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: