মাগুরানিউজ.কমঃ
“আপনের চেয়ে পর ভালো, পরের চেয়ে বৃদ্ধাশ্রম।” কঠিন এক সত্য। আর এ সত্যকে মেনেই অনেক বৃদ্ধ মা-বাবা আশ্রয় নেন বৃদ্ধাশ্রমে। সন্তানের কাছে যাদের বেশি কিছু চাওয়ার নেই; শেষ বয়সে আদরের সন্তানের পাশে থেকে সুখ-দুঃখ ভাগ করবার ইচ্ছা এতোটুকুই যা চাওয়ার। আর এ নিয়েই প্রতিটি পিতা-মাতা প্রহর গুণতে থাকেন দিবা-রজনী। কিন্তু অনেকেরই সেই সন্তানের কাছে আশ্রয় না হয়ে; আশ্রয় হয় আপনজনহীন বৃদ্ধাশ্রমে।
মাগুরার শ্রীপুরের টুপিপাড়ায় অবহেলিত বয়স্কদের জন্য তৈরি হচ্ছে শাহ আব্দুল গাফ্ফার ও সুফিয়া খাতুন বৃদ্ধাশ্রম। এলাকার অবহেলিত বৃদ্ধদের জন্য শেষ আশ্রয়। তাদের সারা জীবনের অবদানের যথার্থ স্বীকৃতি, শেষ সময়ের সম্মান ও নিরাপত্তা দেওয়া হবে এই বৃদ্ধাশ্রমে। এখানে তারা নির্ভাবনায়, সম্মানের সঙ্গে, আনন্দের সঙ্গে বাকি দিনগুলো কাটাতে পারবেন এ লক্ষেই এই বৃদ্ধাশ্রম, জানালেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মাগুরার কিংবদন্তি যোদ্ধা মরহুম আকবর হোসেন মিয়ার সুযোগ্য সন্তান ৩নং শ্রীকোল ইউপি চেয়ারম্যান কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া কুটি।
কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া কুটি মাগুরা নিউজকে জানান, তার বাবা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মাগুরার কিংবদন্তি মুক্তিযোদ্ধা অধিনায়ক মরহুম আকবর হোসেন মিয়ার বিশেষ আগ্রহে আমেরিকা প্রবাসী শাহ আব্দুস শাকুর,শাহ আব্দুল মতিন, শাহ আব্দুল ফরিদ, শাহ আব্দুল ফারুক, মন্জিলা খাতুন ও ফজিলা খাতুন বৃদ্ধাশ্রমের জন্য তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দান করেন গত তিন মাস আগে। দানকৃত সম্পত্তির উপরই বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তোলা হচ্ছে।
বৃদ্ধাশ্রমের নামকরন করা হয়েছে শাহ আব্দুল গাফ্ফার ও সুফিয়া খাতুন বৃদ্ধাশ্রম।
ইতিমধ্যেই বৃদ্ধাশ্রমের ছাদ ঢালাই-এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১৭ আগস্ট ছাদ ঢালাই-এর কাজ শুভ উদ্বোধন করেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান বদরুল আলম হিরো, ৩নং শ্রীকোল ইউ,পি চেয়ারম্যান কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া, ৫নং দারিয়াপুর ইউ,পি চেয়ারম্যান কাজী মহিদুল ইসলাম।
বৃদ্ধাশ্রমটির নির্মাণ এবং সার্বিক দায়দায়িত্বে রয়েছেন শ্রীকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া(কুটি)।
বৃদ্ধাশ্রম সম্পর্কে কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া (কুটি) বলেন, আমাদের মনে রাখা উচিত আজ যিনি সন্তান, তিনিই আগামীদিনের পিতা কিংবা মা। বৃদ্ধ বয়সে এসে মা-বাবারা যেহেতু শিশুদের মতো কোমলমতি হয়ে যায়, তাই তাদের জন্য সুন্দর জীবনযাত্রার পরিবেশ তৈরি করাই সন্তানের কর্তব্য। আর যেন কখনো কোনো পিতা-মাতার ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রম না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। তাদের জন্য তৈরি করতে হবে একটা নিরাপদ ও সুন্দর পৃথিবী। এলাকার পারিবারিক স্নেহবঞ্চিত অভাবগ্রস্ত প্রবীণদের এখানে ঠাঁই হবে। জীবনের শেষ দিনটি যাতে তারা একটু ভালোভাবে কাটাতে পারে এখানে সে ব্যবস্থা থাকবে।
এই মহতি কাজের জন্য উদ্দোগ গ্রহনকারীদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মাগুরাবাসী।


