মাগুরানিউজ.কমঃ
বিশেষ প্রতিবেদক-
মাগুরার হাজারো লিচুবাগানে শুনশান নিরবতা। সদর উপজেলার প্রায় দেড় হাজার লিচুবাগানের ৯০ ভাগ গাছে এবার লিচু ধরেনি। এতে চলতি মৌসুমে কয়েক হাজার চাষি কমপক্ষে ১৫ কোটি টাকার লোকসান গুনছেন।
সদর উপজেলার হাজরাপুর, ইছাখাদা, মিঠাপুর, হাজীপুর, ইছাখাদা, খালিমপুর, মির্জাপুর, রাওতড়া, রামনগর সাইত্রিস, আলাইপুর, রাঘবদাড়, নড়িহাটিসহ প্রায় ২০টি গ্রাম ‘লিচু গ্রাম’ নামে প্রসিদ্ধ। কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার লিচু ধরেছে মাত্র ১০ ভাগ।
গ্রামগুলো প্রতিবছর এই সময়ে গাছ থেকে লিচু সংগ্রহ ও বাজারে পাঠানোর ব্যস্ততায় সরগরম থাকে। কিন্তু বাগানগুলোতে এবার তেমন লিচু নেই।
মো: আলতাফ হোসেন, মো: তোতা মিয়াসহ আনেক বাগান মালিকরা বলেন, এবার গাছগুলোতে মুকুলের পরিমাণই কম ছিল। তার ওপর সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগই এমন ফলন বিপর্যয়ের কারণ।
মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পার্থ প্রতিম সাহা জানান, একই জমিতে দীর্ঘদিনের লিচু বাগান, মাটির উর্বরতা কমে যাওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগই দায়ী।
হাসনা বানু, রশেদা আকতার, জাহেদাসহ আনেক দারিদ্র নারীরা জানান, এ মৌসুমে লিচু বাগানে লিচু সংগ্রহের কাজ থেকে পারিবারিক আর্থিক যোগানের সিংহভাগ আসে কিন্তু গত দুই বছর তাদের লিচু বাগানে কাজ নেই।
সিদ্দিক মোল্লা বলেন, ‘আমার ছয়শ লিচু গাছ আছে। প্রতিবছর ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করি, কিন্তু গত দুই বছর খরচই উঠছে না।’
ইছাখাদা বাজারের ফল ব্যবসায়ী মো: রশিদ জানান, ‘প্রতিবছর এ সময় ঢাকাসহ সারা দেশের লিচু ব্যাপারিরা ভিড় জমাই মাগুরার লিচু বাগানে। এবার ব্যাপারি শূন্য মাগুরার লিচু বাগান।’

