মাগুরানিউজ.কমঃ
মানুষের কল্যাণের জন্য যে সাধনা তাই ছিল তার ধর্ম। তার দর্শন ছিল মানুষের মুক্তির দর্শন। মানবতাবাদী এই কবি বিশ্বাস করতেন বিশ্বমানবতায়। তিনি জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেই দর্শনের অন্বেষণেই ছিলেন। তিনি আমাদের কবিগুরু বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
তিনি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি অঙ্গণে যে ছাপ রেখে গেছেন, তা মুছে যাবার নয়। রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশ ও ভারত- দু’দেশের মানুষের প্রাণের কবি। রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক চেতনা শুধু নিজের শান্তি বা নিজের আত্মার মুক্তির জন্য নয়। তার কবিতা, গান, সাহিত্যের অন্যান্য লেখনী মানুষকে আজো সেই অন্বেষণের পথে, তার উপলব্ধির পথে আকর্ষণ করে। তার লেখা ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি…` গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। ভারতের জাতীয় সংগীতও তার লেখা।
আজ বাইশে শ্রাবণ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম মহাপ্রয়াণ দিবস। সশরীরে না থাকলেও তিনি গানে, কবিতায়, গল্পে, উপন্যাসে, প্রবন্ধে, ছবিতে প্রবলভাবে রয়েছেন আমাদের মাঝে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, ভাষাবিদ, চিত্রশিল্পী-গল্পকার। ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয় তার ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
বাইশে শ্রাবণ বিশ্বব্যাপী রবীন্দ্রনাথ ভক্তদের কাছে একটি বেদনাময় দিন। শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের শেষ দিনগুলোতে কখনও তিনি শয্যাশায়ী, কখনও মন্দের ভালো। ২২ শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন মৃত্যু পথযাত্রী জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির ঘড়িতে বেলা ১২টা বেজে ১০ মিনিট। কবি চলে গেলেন অমৃত আলোকের নতুন দেশে।


