১ ও ২ টাকার মুদ্রা আসছে ১১০ কোটি পিস

মাগুরানিউজ.কমঃ

2_1_taka_01_126476478

৯০ কোটি পিস ১ ও ২ টাকার ধাতব মুদ্রা এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হয়েছে। শিগগিরই এগুলো বাজারে আসবে। জুনের মধ্যে নতুন করে আনা হচ্ছে ২০ কোটি পিস ২ টাকার নোট। সব মিলিয়ে চলতি বছরের মধ্যেই আসছে আরো ১১০ কোটি পিস ১ ও ২ টাকার মুদ্রা।

১ ও ২ টাকার মুদ্রা মূল্য হারিয়েছে— অর্থমন্ত্রীর এমন ঘোষণার মধ্যেই নতুন করে এ মুদ্রা আনার তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, অদূর ভবিষ্যতে ১ ও ২ টাকার মুদ্রা বিলুপ্তির পরিকল্পনা সরকারের নেই। এরই অংশ হিসেবে ২০ কোটি পিস ২ টাকার নোট ছাপাতে কাগজের জন্য এলসি খোলা হয়েছে। আগামী মে-জুনের মধ্যেই অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিবের স্বাক্ষরযুক্ত ২ টাকার নোট বাজারে পাওয়া যাবে। এছাড়া জাপান ও স্লোভাকিয়া মিন্টের সরবরাহ করা ৯০ কোটি পিস ১ ও ২ টাকার কয়েনও এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. আবুল কাশেম এ প্রসঙ্গে বলেন, বিদেশ থেকে চলতি অর্থবছরে ৯০ কোটি পিস ধাতব মুদ্রা এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ কোটি পিস ২ টাকার নোট ছাপানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এটা নিয়ে টাঁকশাল কাজ করছে। জুনের আগেই নতুন এ নোট বাজারে পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ১ ও ২ টাকার মুদ্রা মান হারিয়েছে— এমন ধারণা একেবারেই ভুল। এখনো এগুলো মান হারায়নি। ১ টাকার কয়েন এখনো ১ সেন্টের চেয়ে দামি। ২ টাকার কয়েন ব্রিটিশ ১ পেনির চেয়ে বেশি মূল্যমানের। তাছাড়া বিনিময়ের ক্ষেত্রে এ দুই মুদ্রার এখনো প্রয়োজন রয়েছে। ভবিষ্যতেও থাকবে।

তাদের মতে, বাজারে অনেক পণ্য রয়েছে, যার দাম ১ বা ২ টাকা। এসব পণ্য একটি কিনতে গেলে ভোক্তারা সমস্যায় পড়বেন। এছাড়া সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা এবং বিল পরিশোধে ১ টাকা ও ২ টাকার মুদ্রার প্রয়োজন হয়। যাত্রীভাড়া পরিশোধেও ১ ও ২ টাকার মুদ্রার প্রয়োজন পড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ১ ও ২ টাকার মুদ্রা মূল্য হারিয়েছে— এ যুক্তি বিস্ময়কর। বাংলাদেশের মুদ্রা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী। এ দেশের মুদ্রার অবস্থা ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়ার মতো হয়নি যে, ১ ও ২ টাকা তুলে নিতে হবে।

উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত রোববার ১ ও ২ টাকার মুদ্রা বিলুপ্তির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ১ টাকা ও ২ টাকার মুদ্রা মান হারিয়েছে। এ কারণে সরকার মুদ্রা দুটি বিলুপ্তির কথা ভাবছে। পাশাপাশি ৫ টাকাকে সরকারি নোটে পরিবর্তন করা হবে।

গতকালও প্রায় একই কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তবে এখনই নয়, ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে ১ ও ২ টাকার মুদ্রা তুলে নেয়ার কথা বলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত।

অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় সাধারণ ভোক্তারা। তাদের মতে, সরকারের এ পরিকল্পনায় সাধারণ মানুষের কোনো লাভ হবে না। বরং পদে পদে ভোগান্তি বাড়বে। বাড়বে ব্যয়ও।

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা। তাদের একজন মালিবাগের মুদি দোকানদার বাবুল মিয়া। তিনি বলেন, তার দোকানে লজেন্স, চুইংগাম, বিস্কুট, চানাচুর, মিনিপ্যাক শ্যাম্পুসহ অনেক পণ্য আছে, যার একেকটির দাম ১ থেকে ৮ টাকা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এগুলো এক পিস করে বিক্রি হয়। ১ ও ২ টাকার মুদ্রা না থাকলে ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তারা।

৫ টাকার কম মূল্যমানের মুদ্রা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান। তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে ভোক্তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। সরকার বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে।-বণিক বার্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: