মাগুরানিউজ.কমঃ
প্রতিবছরের মতো এবারও গ্রামাঞ্চলের হতদরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আমন মৌসুমে ফলন আসার ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হাতে কোনো কাজ থাকে না। তখন তাদের কাজের সুযোগ তৈরি করে দিতে এ প্রকল্প শুরু হয়। দিনে দিনে এ প্রকল্পের সুফল পেতে শুরু করেছে দরিদ্ররা।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের অধীনে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের প্রায় সাত লাখ ২০ হাজার মানুষ এ মাস থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে কাজ করার সুযোগ পাবে। গত বছর এ প্রকল্পে কাজ করেছে ছয় লাখ ৯৩ হাজার দরিদ্র মানুষ।
দেশের ৪৬০টি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের মেম্বাররা এসব প্রকল্পের দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে বছরে দুবার দরিদ্রদের কর্মসৃজনের ব্যবস্থা করে। এসব কাজ তদারকির জন্য ৩৩৪ জন ফিল্ড সুপারভাইজারও নিয়োগ করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
আগামী বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্তও আবার এ প্রকল্পে দরিদ্ররা কাজ করতে পারবে। অর্থাৎ বছরে দুবার এ প্রকল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে গ্রামের হতদরিদ্র মানুষ।
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গ্রামীণ অঞ্চলে কর্মহীন অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ৮০ দিনের স্বল্পমেয়াদি প্রকল্পের আওতায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে সরকার। গ্রামের কাঁচা সড়কের মাটি ভরাট, ছোট ছোট কালভার্টের দুই পাশের মাটি ভরাট, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসার মাঠ ভরাটসহ নানা কাজে দরিদ্ররা শ্রম দিয়ে থাকে। এক দিন কাজ করলে শ্রমিকরা পাচ্ছে নগদ ২০০ টাকা করে। গত বছর এ প্রকল্পে সরকারের বরাদ্দ ছিল এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ বছর অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়ে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কম্প্রিহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ দুই হাজার ইউনিয়নের জনবলকে ঝুঁকি হ্রাসে সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ করা হচ্ছে। দুর্যোগকালে জরুরি সহায়তার জন্য ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে অনুসন্ধান, উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসার ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে এমন ছয়টি শহরের ভূমিকম্পবিষয়ক মাইক্রোজোন্যাশন ম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক দুর্যোগকালীন জনগণের পাশে এসে দাঁড়াবে।


