মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার ব্যবসায়ীসহ সাধারণ নাগরিকরা ঘন ঘন বিদ্যুতের আসা যাওয়া আর লোডশেডিং এ দিশেহারা। শিল্প কারখানায় উৎপাদন হচ্ছে ব্যহত, অফিস আদালতে কাজকর্মে ঘটছে ব্যাঘাত। প্রচন্ড গরমে বিদ্যুত সংকটের কারণে বিরাজ করছে তাদের মাঝে চরম ক্ষোভ।
মাগুরাসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলা, ফরিদপুর অঞ্চলের ৫ জেলা ও বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা নিয়ে গঠিত ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড এর আওতাধীন ২১ জেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং এ এলাকার ৩ কোটি মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রচন্ড গরমে বিদ্যুত সংকটের কারণে বিরাজ করছে তাদের মাঝে চরম ক্ষোভ। পিক আওয়ারে লোডশেডিং এর পরিমান তিন শ থেকে সাড়ে তিন শ মেগাওয়াটে পৌচেছে। গত দু সপ্তাহর লোডশেডিং এর চিত্র দেখলেই বোঝা যাবে যা মানুষের জন্য অসহনিয়।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের খুলনা লোড ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সপ্তাহের বুধবারে পিক আওয়ারে এ অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৯শ ৮৩ মেগাওয়াট। সরবরাহের পরিমান ছিল ৬শ ৯৯ দশীমক ৮ মেগাওয়াট।ঘাটতি ছিল ২শ ৮৩ দশমিক ৯ মেগাওয়াট।এ সময় দিনের বেলা চাহিদা ছিল ৬শ ৭৬ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। সরবরাহ ছিল ৫শ ৪৪ দশমিক ৮ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ১শ ৩১ দশমিক ৭ মেগাওয়াট। মঙ্গলবার পিক আওয়ারে চাহিদা ছিল ১ হাজার ১৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াট। সরবরাহ ছিল ৭শ ২০ দশমিক ১ মেগাওয়াট। লোডশেডিং এর পরিমান ছিল ২শ ৯৭ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। সোমবার পিক আওয়ারে চাহিদা ছিল ৯শ ৬৫ দশমিক ৭ মেগাওয়াট। সরবরাহ ছিল ৬শ ৯৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ২শ ৬৮ দশমিক ৩ মেগাওয়াট।
বৃহস্পতিবার দিনে চাহিদা ছিল ৭শ ৩ দশমিক ৯ মেগাওয়াট। সরবরাহ ছিল ৫শ ৬৪ দশমিক ২ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ১শ ৩৯ দশমিক ৭ মেগাওয়াট।চরম এ বিদ্যুৎ সংকটের সময় খুলনার গোয়ালপাড়া পিডিবির ১১০ ও ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটি বন্ধ রয়েছে। মাগুরার ব্যবসায়ীসহ সাধারণ নাগরিকরা ঘন ঘন বিদ্যুতের আসা যাওয়া আর লোডশেডিং এ দিশেহারা। শিল্প কারখানায় উৎপাদন হচ্ছে ব্যহত, অফিস আদালতে কাজকর্মে ঘটছে ব্যাঘাত।
মাগুরা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রের ফিডার ইন চার্জ হিমাদ্রী শেখর জানান, পিডিবির ২০ হাজার গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা ১০ মেঘাওয়াট সেখানে সরবরাহ মাত্র ৬ মেঘাওয়াট আর পল্লীবিদ্যুতের আওতায় ৮০ হাজার ৭৮৪ গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা ২২ মেঘাওয়াট।
সরবরাহ মাত্র ৯ মেঘাওয়াট বলে জানান, পল্লী বিদ্যুতের জুনিয়র প্রকৌশলী জি এম আল মামুন। নাজুক এ বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে চাষাবাদে ও ঘটছে বিপর্যয়। সবকিছু মিলে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির বিরাজ করছে। মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। এলাকার মানুষ এ দূর্বিসহ যন্ত্রনা থেকে রক্ষা পেতে সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

