লালে লাল হলো মাগুরা……….

মাগুরানিউজ.কমঃ 

strawberry

লালে লাল হলো মাগুরা। ভাবছেন এমন কি ঘটল যে মাগুরা লালে লাল হলো। বুঝে উঠতে পারছেননা তো? তাহলে শুনুন, টুকটুকে লাল রঙে ছেয়ে আছে মাগুরার স্ট্রবেরি ক্ষেতগুলো। মাগুরার স্ট্রবেরি ফলের বাগান গুলোতে পাকতে শুরু করেছে স্ট্রবেরি।  দামি এ ফল বদলে দিয়েছে চাষিদের অর্থনৈতিক অবস্থা।

বিদেশি ফল স্ট্রবেরি স্বাদ, গন্ধ আর রঙে অতুলনীয় একটি ফল। বর্তমানে বাংলাদেশে এর বানিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে। প্রাপ্তি পর্যাপ্ততা থাকায় আমাদের কাছে স্ট্রবেরি খুবই সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। নানা ধরনের ডেজার্টে তো বটেই সুস্বাদু ফল স্ট্রবেরী আপনি রাখতে পারেন রোজকার খাদ্যতালিকায়। ছোট্ট এই ফলটি আপনার দেহের জন্যে ভীষণ উপকারী।

একসময় মহামূল্যবান ফল হিসাবে স্ট্রবেরির পরিচিতি থাকলেও পুষ্টি গুণাগুণ ও ওষুধি গুণসমৃদ্ধ ফল হিসেবেও এর কদর বেড়েছে। ঢাকার মতো ধীরে ধীরে মাগুরায়ও জনপ্রিয়তা বেড়েছে স্ট্রবেরির। এ জেলার অনেক শিক্ষিত-অশিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী স্ট্রবেরি চাষ করে লাভের মুখ দেখছে। এই এলাকার স্ট্রবেরির আকার, রং ও স্বাদ ভালো হওয়ায় এর চাহিদাও রয়েছে বেশ ভালোই।

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে এখানকার স্ট্রবেরি। নতুন জাতের ফল হওয়ায়, কৃষকদের যদি সহজ শর্তে ঋণ দেয়া হয়, তাহলে মাগুরায় এ চাষ দিন দিন আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রান্তিক চাষীরা।

মাগুরা সদর উপজেলার লাউতাড়া গ্রামে ৬০ শতক জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করেছেন মো: শওকত হোসেন। ২০১২ সালে টিভিতে তিনি সর্বপ্রথম স্ট্রবেরি চাষ সংক্রান্ত একটি সংবাদ দেখে উদ্বুদ্ধ হন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুর স্যারের পরামর্শ নিয়ে জমিতে তামাক, পেয়ারা, পাট চাষের বদলে বেছে নেন স্ট্রবেরি। প্রথম বছরেই ৩ লাখ টাকা লাভ পান। বর্তমানে তার বাগানে ৬/৭জন কর্মচারী রয়েছেন। এবছর ইতিমধ্যে তিনি ৫০ হাজার টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি করেছেন। এছাড়া চারা ও ফল বিক্রি করে প্রায় ৪ লাখ টাকা লাভ থাকবে বলে আশাবাদ তার।

মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুব্রত কুমার জানান, স্ট্রবেরি চাষ করার জন্য মাগুরার মাটি ও আবহাওয়া ভালো হওয়ায় এখানকার স্ট্রবেরির আকার-আকৃতি, রং ও স্বাদ ভালো হয়। ফলে বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা ভিড় জমায় মাগুরায়। স্ট্রবেরি চাষী শওকত হোসেন জানান, এখানে স্ট্রবেরির দাম কম হওয়ায় পাইকাররা লাভও ভালো পান। এখান থেকে ক্রয় করে পাইকাররা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে এসব ফল। নতুন জাতের ফল হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও অনেক বলে জানিয়েছেন তিনি। স্ট্রবেরি চাষীরা অভিযোগ করে জানান, যদি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের থেকে আরো বেশি সাহায্য সহযোগিতা ও পরামর্শ পাওয়া যায় তাহলে তাদের এ লাভ দ্বিগুণ হবে। এছাড়া সহজ শর্তে অথবা সুদ মুক্ত ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে নতুন এ চাষে মাগুরায় ব্যাপক সাড়া পড়বে বলেও জানার এসব চাষী।

চাষীরা জানান, সার-মাটি, সেঁচ কম লাগায় ও তামাক, কলা, পেয়ারাসহ অন্যান্য ফষলের তুলনায় এ চাষে খরচ কম হওয়ায় দিন দিন মাগুরার কৃষকেরা স্ট্রবেরি চাষে ঝুকছেন। এ বাগান করলে ফল বিক্রির সাথে সাথে চারাও বিক্রি করা যায়। একবার বাগান করলে দ্বিতীয় বছর আর চারা কিনতে হয় না।

মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ আমিনুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে জানান, স্ট্রবেরিতে ওষুধি গুণাগুণ থাকায় এটি বার্ধক্য জনিত সমস্যার সমাধান করতে পারে। এছাড়া কিছু উল্লেখযোগ্য এসিড থাকায় মরণব্যাধি ক্যান্সার থেকেও মানুষকে রক্ষা করে স্ট্রবেরি। তিনি প্রতিনিয়ত সকলকে স্ট্রবেরি খাবার পরামর্শও দেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে জানালে তিনি সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমানের কারিগরি সহযোগিতায় ২০১২ সাল থেকে এ জেলায় স্ট্রবেরি চাষ শুরু হয়েছে। তিনি জানান, মাগুরার মাটি ও আবহাওয়া এ চাষের উপযোগী হওয়ায় এবং স্ট্রবেরি অর্থকরী ফসল হওয়ায় বর্তমানে এ বছর মাগুরা সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ২ একর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: