মাগুরানিউজ.কমঃ
সবজি হিসেবে মিষ্টিকুমড়ার মিষ্টতা আমরা সবাই জানি। মিষ্টিকুমড়া অনন্য ভর্তা, ভাজি আর ঝোলে। খুব সহজেই চাষযোগ্য এই সবজির ডাটা-পাতা শাক হিসেবেও খাওয়া যায়। প্রচুর পুষ্টি সমৃদ্ধ মিষ্টিকুমড়া সবজির মধ্যে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন। মাগুরায় ধান চাষের বদলে সবজি চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছে কৃষকরা। লাভজনক হওয়ায় তারা প্রতি বছর আবাদ করছেন মিষ্টি কুমড়া। আর দিন দিন তারা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।
মাগুরা শহর থেকে শ্রীপুর যেতে এলাকার রাস্তার দুই ধারে শুধু মিষ্টি কুমড়ার চাষ। মাটির দিকে তাকালে মনে হয় পুরো মাঠে পাথর পড়ে আছে। কাছে গেলে দেখা যায় আসলে ওগুলো পাথর না। ক্ষেতজুড়ে মিষ্টি কুমড়া এলোমেলোভাবে পড়ে আছে। কুমড়া ক্ষেতে কাজ করা শ্রমিকরা জানায়, এ জমিতে এর আগে ভুট্টা চাষ হয়েছিলো। কিন্তু লাভজনক না হওয়ায় পরের বছর থেকে রসুন আর কুমড়া চাষ করেন মালিক।
কুমড়া চাষি মেসবাউর জানান, আলু, ধান, পাট, ভুট্টা এসব ফসল লাভজনক না হওয়ায় তিনি নিজ উদ্যোগে একই জমিতে রসুন ও সবজি চাষ করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। এ বছর প্রায় ১০ একর জমিতে সুইটি জাতের মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছেন। আর এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। এ জমিতে ৫ কেজি ওজনের প্রায় ১২ হাজার কুমড়া উত্পাদন হবে। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়ার পাইকারি দাম তিন টাকা হলে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাবেন তিনি। খরচ বাদে সব মিলে তার প্রায় সোয়া লাখ টাকা আয় হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে কুমড়া উঠিয়ে গোডাউনে রাখা হচ্ছে। বাজার আরেকটু ভালো হলেই বিক্রি করবেন। এতে হয়তো লাভ আরও বেশি হবে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এলাকাটা তাদের না হলেও তারা মাঝে মধ্যে মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত দেখতে আসেন। তারা বলেন, স্থানীয় চাহিদা পূরণ করার পরও দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যান।


