মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরা সহ দেশের ৫৫টি জেলার প্রায় চার কোটি ৫৮ লাখ ৪৩ হাজার ৪০৪টি ভূমির খতিয়ান ডিজিটাল করা হবে। এর পাশাপাশি খতিয়ানের ডাটা এন্ট্রি এবং তা সংরক্ষণ করা হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে।
ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে ভূমি জরিপ ও রেকর্ড প্রণয়ন করে উন্নত মানের সেবা প্রদান করা হবে।
ভূমি জরিপ পদ্ধতিতে আইসিটি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে খতিয়ান সংরক্ষণ করা এবং ভূমি মালিকগণকে সহজে সরবরাহ করা হবে।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ ও রেকর্ড প্রণয়ন এবং সংরক্ষণে বিদ্যমান মৌজা ‘ম্যাপস অ্যান্ড খতিয়ানের কম্পিউটারাইজেশন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ভূমি জরিপ পদ্ধতিতে ডিজিটালের ছোঁয়া লাগছে।
পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, মঙ্গলবার প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
এটি একটি সংশোধিত প্রকল্প। জুলাই ২০১২ থেকে জুন ২০১৪ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। পরে প্রকল্পের কাজ ডিজিটাল করার লক্ষ্যে প্রায় ৬৫ দশমিক ৭৩ ভাগ ব্যয় বাড়ছে; সঙ্গে বাড়ছে মেয়াদও।
সংশোধিত প্রকল্পটি ২০১২ সালের জুলাই থেকে মেয়াদ বেড়ে জুন ২০১৬ নাগাদ বাস্তবায়ন হবে। এতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
প্রকল্প সংশোধনের কারণ:
প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বৃদ্ধিকরণ এবং মোট প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে ৩৬ কোটি ৮০ লাখ।
এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ডেভেলপমেন্ট সফটওয়্যারের ইলেকট্রনিক ল্যান্ড রেকর্ড সিস্টেমের (ইএলআরএস) ওপর প্রতিটি জেলার রেকর্ড রুমের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রকল্পটি সংশোধন করা হচ্ছে।
এছাড়া সারাদেশে ইএলআরএস বাস্তবায়ন টিমকে সম্মানীত করা হবে। জাতীয় পর্যায় থেকে ডাটা এন্ট্রি কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য একটি ৪২ ইঞ্চি এলইডি টিভি কেনা হবে।
৫৫টি জেলার রেকর্ড রুমে ২ এমবিপিএস ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া ডাটা এন্ট্রি হার ৬ টাকা থেকে ১৩ টাকা ৫০ পয়সা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে প্রকল্পটি সংশোধিত হচ্ছে।
জানা গেছে, ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। জেলাগুলো হচ্ছে- ঢাকা, নেত্রকোনা, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর ও শরীয়তপুর।
চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, নোয়াখালী, চাঁদপুর ও কক্সবাজার জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
এছাড়া সিলেট বিভাগের, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
অপরদিকে, বরিশাল বিভাগের ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।
রাজশাহী বিভাগরে সাতটি জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এগুলো হচ্ছে- রাজশাহী, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট ও বগুড়া।
রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা ও ঠাকুরগাঁও জেলা ভূমি জরিপ পদ্ধতি ডিজিটাল করা হবে।
এছাড়া খুলনা বিভাগের বাগেরহাট, নড়াইল, সাতক্ষীরা, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও মেহেরপুর জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

