মাগুরায় মাঠের পর মাঠজুড়ে সোনালী সমুদ্র

মাগুরানিউজ.কমঃ 

11034211_16192003416452utygfhi48_4267031593851699161_n
দেখলে মনে হয় সোনালী সমুদ্র। মাঠের পর মাঠজুড়ে সোনালী শীষ বাতাসে দুলছে। শন শন শব্দে আন্দোলিত হচ্ছে কৃষকের মন। মাগুরায় গমের এমন ছবি এখন হরহামেশাই চোখে পড়ে কৃষকের মাঠে। জেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দাম পেয়ে কৃষক খুশি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার তিনটি উপজেলায় এবার মোট ৮ হাজার ৯১৪ হেক্টর জমিতে গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।  লক্ষমাত্রার চেয়ে ২ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল শতাব্দী, সৌরভ, গৌরব, প্রদীপ,  বারি-২৫, ২৬, ২৭ ও ২৮ জাতের গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি একরে গমের ফলন হয়েছে ২৫-৩০ মণ। হেক্টরে ফলন হয়েছে ৭০-৭৫ মণ। যা থেকে উৎপন্ন হবে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন মণ গম।

উন্নত জাতের এসব গম সাধারণ জাতের গমের তুলনায় সময় যেমন সাশ্রয় হয়, তেমনি ফলন বাড়ে দ্বিগুণ। এছাড়া এ জাতের গম খরা সহিষ্ণু। যার ফলে বেশি কুয়াশা বা কম শীতের কারণে ফলনে তেমন কোন তারতম্য হয় না।

এ বিষয়ে মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের শস্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞ আলিমুজ্জামান জানান, সাধারণত আমাদের দেশে সাধারণ জাতের গমের ক্ষেত্রে যে অসুবিধা দেখা যায় সেটি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ দিন শীত না থাকলে ওই গমের চারাগুলি দানা বাঁধে না। যেহেতু এটি শীতকালীন ফসল। কিন্ত নতুন উদ্ভাবিত এই গম খরা সহিষ্ণু হওয়ায় এই ঝুঁকি থাকছে না।

এ ছাড়া সাধারণ জাতের গম  যেখানে ১২০ থেকে ১২৫ দিন সময় নেয়। সেখানে উচ্চ ফলনশীল এই গম ১১০ দিনের মধ্যেই কাটার উপযোগি হয়ে যায়। অথচ ফলন হয় সাধারণের তুলনায় দ্বিগুণ। এ কারণে সারা দেশে এই গম ছড়িয়ে দিতে পারলে  দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে এটি রপ্তানী করা সম্ভব হবে। স্থানীয় বাজারে প্রতিমণ গম ৮৫০ থেকে ১ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকার কয়েক বছর ধরে নায্য মূল্যে গম কেনায় ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষক।

জেলা সদর, মহম্মদপুর, শ্রীপুর ও শালিখা উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৫০ ভাগ গম কর্তন প্রায় শেষ। বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষক ক্ষেতেই গম শুকিয়ে কর্তন করছেন । সনাতন পদ্ধতিতে গম মাড়াই করতে কৃষকের ভোগান্তির সঙ্গে সময় ও অর্থ দুই ব্যয় হতো। এখন গ্রামে গ্রামে শ্যালো ইঞ্জিন চালিত পাওয়ার ক্রাসিং মেশিন  দিয়ে সহজে গম মাড়াই করছেন।

মগী গ্রামের কৃষক বিজন কুমার বিশ্বাস জানান, তিনি প্রথম বারের মতো একাধিক প্লটে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় বারি -২৬ জাতের গম বুনে সাধারণ জাতের থেকে দ্বিগুণ ফলন  পেয়েছেন। যে কারণে স্থানীয় কৃষকরা ব্যাপকভাবে উৎসাহিত হয়েছেন।  অনেকেই আগামী বছর এই জাতের গমের চাষ করার জন্য তার কাছে বীজ চেয়ে রেখেছেন।

গম চাষিরা জানান, মাগুরায় শীত স্থায়ী না হওয়ায় এখানকার আবহাওয়া কিছুটা গম চাষের অনুপযোগি। এ ছাড়া এখানকার কৃষকেরা পাট কেটেই স্বল্পকালীন ধানের চাষ করেন। ১২০-১২৫ দিনের মধ্যে বিনা-৭, ৮ ও ব্রি-৩৩ জাতের ধান কাটার পর নভেম্বরের শেষ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে গমের আবাদ করেন তারা। শীত চলে যাওয়ায় গমের ফলনে মার খেয়ে আবাদে আগ্রহ হারচ্ছিলেন কৃষক।  উফসী জাতের গমে স্বল্প মেয়াদে বেশি ফলন হওয়ায় সমস্যা দূর হওয়ার পাশাপাশি আগ্রহ বেড়েছে।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক পার্থ প্রতিম সাহা জানান, কম সময়ে বেশি ফলন হওয়ায় এ এলাকার কৃষক গম চাষে উদ্ব্দ্ধু হচ্ছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
%d bloggers like this: