মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরায় মাঠজুড়ে সোনালী সমুদ্র। দৃষ্টি জুড়ে শুধুই ধানের খেত। বোরো ধানের সোনালী চাদরে ঢাকা পড়েছে মাঠ। ছড়ায় ছড়ায় দুলছে কাঁচা পাকা ধান। নতুন ধানের মিষ্টি ঘ্রাণে এখন মৌ মৌ করছে মাগুরার মাঠ। কোথাও কোথাও আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে পুরোপুরি ধান কাটা শুরু হতে আরো এক সপ্তাহ লাগবে বলে জানালেন কৃষকরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে আর কয়েকটি দিন রক্ষা পেলে চলতি বোরো মৌসুমে বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ৩৬ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ২১ হেক্টর জমিতে, উফশী জাতের ধান আবাদ হয়েছে ২৭ হাজার ৯৪৯ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার ৩৪২ হেক্টর বেশি জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে (চাল আকারে) এক লাখ ৪৮ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন।
এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১৭ হাজার ২৭৪ হেক্টরে হাইব্রিড, ৫১ হাজার ৯৯০ হেক্টরে উফসী, মহম্মদপুরে ১ হাজার ৭০ হেক্টরে হাইব্রিড, ৫১৬ হাজার ২৫৪ হেক্টরে উফসী, শালিখায় ১৯ হাজার ১৬০ হেক্টরে হাইব্রিড, ৩১ হাজার ৭৭৩ হেক্টরে উফসী ও শ্রীপুর উপজেলায় ৮২৬ হেক্টরে হাইব্রিড, ১০ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমিতে উফসী জাতের বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে।
কৃষকরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বোরোর আবাদ শুরু করলেও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মাঠের ধানের অবস্থা বেশ ভালো। অধিকাংশ জমির ধান গাছে শীষ বেরিয়েছে। কোথাও শীষে চিটার খবর পাওয়া যায়নি। এ বছর জমিতে তেমন পোকার আক্রমণও হয়নি বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
ইতিমধ্যে স্থানীয় কৃষি বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কাটার উদ্বোধন করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় কৃষক আগাম জাতের ব্রি-২৮, ২৯ ও হাইব্রিড এল সি- ৮ জাতের ধান কাটতে শুরু করেছেন। ধানের মাড়াই পর্যালোচনা করে কৃষি বিভাগ বাম্পার ফলনের কথা জানিয়েছেন।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক পার্থ প্রতিম সাহা জানান, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় সার ,বীজ, ডিজেল ও বিদ্যুৎ সংকট না হওয়ায় বোরোর বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড়, শীলা বৃষ্টি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার বোরোর বাম্পার ফলন আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


