মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরায় মানুষের চেহারা দেখেই রোগ নির্ণয় করে সাথে সাথেই ওষুধ তৈরি করে দিচ্ছেন। তারা নিজেদের মহাকবিরাজ, সর্বশ্রেষ্ঠ হেকিম, হারবাল বিশেষজ্ঞ ভেষজবিদ ও অমুকের পুত্র তমুক বলে নিজদের পরিচয় দিয়ে থাকেন। তারা উত্তরাধিকার সূত্রে এ পেশাতে এসেছেন।
গ্যাস্ট্রিক, অশ্ব, আমাশয়, পাইলস, মহিলাদের জটিল রোগ, লিভার কিডনিসহ নানা জটিল রোগের সব ওষুধ পাওয়া যায় তাদের কাছে। ওষুধের বেশিরভাগ ক্রেতা গ্রামের অশিক্ষিত দরিদ্র সহজ-সরল। সরল বিশ্বাসে তারা এসব ওষুধ সেবন করে আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
মাগুরায় এক শ্রেণির কবিরাজের দ্বারা প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। হাটবাজার, মেলা ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ওষুধের পসরা সাজিয়ে বসছেন এসব কবিরাজরা।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামের হাটবাজার ও মেলায় এক শ্রেণির ভ্রাম্যমাণ কবিরাজদের আনাগোনা।শীতকালে তাদের বেশি দেখা যায়। রাস্তা বাঁধসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাবু টানিয়ে শতশত বোতলে পরসা সাজিয়ে বসেন।প্রথমে নাচগান ও যাদু খেলা দেখিয়ে জনগণ আকৃষ্ট করেন।এক পর্যায়ে কবিরাজ হাজির হয়। শুরু হয় কথার ফুলঝুরি। বাকপটু এসব ভণ্ড কবিরাজ সাধারণ মানুষকে কথার জালে বন্দি করে ফেলে। রোগ অনুযায়ী ওষুধের দাম ধরা হয়। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে নানা রকম হালুয়া, বড়ি ও সিরাপ। অবস্থাসম্পন্নদের জন্য রয়েছে স্পেশাল ওষুধ। এসব হাতুড়ে কবিরাজদের চিকিৎসালয় হচ্ছে ফুটপাত। নেই কোন চিকিৎসাজ্ঞান ও সনদপত্র। একবার ওষুধ বিক্রি করে চলে যাওয়ার পর তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
সরজমিনে দেখা গেছে, মাগুরা সদর. শ্রীপুর, মহম্মদপুর ও শালিখার বিভিন্ন হাটবাজারে ছেয়ে গেছে এসব কবিরাজে। কালো কুৎসিত উৎকট গন্ধযুক্ত নানা রকম স্বাদও বর্ণের নাম না জানা উপাদান, নানা গাছের বাকল। তারা ওষুধ তৈরির এসব উপাদান অত্যন্ত দুর্লভ ও মহাউপকারী বলে দাবি করে থাকে। এভাবেই সর্বত্র এসব চিকিৎসকের কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন শতশত সাধারণ মানুষ। এতে শুধু প্রতারিত নয়, সাধারণ মানুষ চরম স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
মহম্মদপুর উপজেলা সদরে ফুটপাতে ওষুধ বিক্রি করতে এসেছেন আব্দুল লতিফ কবিরাজ। তিনি বলেন, আমার পিতা হেকিম আলাউদ্দিন এই ব্যবসা করতেন। আমরা তিন ভাই পিতার উত্তরসুরী হিসেবে কবিরাজি করছি। তিনি দাবি করে বলেন, ওষুধে কাজ হয় বলে মানুষ কেনে। প্রতারণা করলে কোন ব্যবসা দীর্ঘদিন চালানো যায় না বলে তিনি জানান।
জেলা সদরের বাসিন্দা রেজাউল শিকদার বলেন, দরিদ্র সাধারণ লোকজন তথাকথিত এসব কবিরাজদের কথার ফাঁদে পড়ে এক ধরণের বিশ্বাসের ওপর ফুটপাতের ওষুধ কিনে।এই ওষুধ খেয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
মাগুরার সিভিল সার্জন বলেন, ফুটপাতের কোন ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। এতে শুধু প্রতারিত নয়, চরম স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।


