মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী রেখা বেগমের (২৫) ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে স্বামী বাচ্চু জমাদ্দার। আজ সোমবার বিকেলে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বড়রিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
তবে এলাকাবাসী বলছেন, রেখাকে এভাবে পিটিয়ে আহত করার কারণ শুধুই যৌতুক নয়। এই পরিবারের যৌতুক নিয়ে কলহ বেশ পুরনো। আজ তাকে এভাবে বেধড়ক পেটানোর পেছনে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। তবে রেখাকে এভাবে পিটিয়ে আহত করা ঠিক হয়নি বলে স্বজনর মন্তব্য করেছে।
বাচ্চু জমাদ্দারের লাঠির আঘাতে রেখা বেগমের নাক, চোখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর জখম হয়েছে। এই অবস্থায় রেখা শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে বাবার বাড়ি দীঘা গ্রামে চলে যায়। বিকেলে তাকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কাজী আবু আহসান জানান, গৃহবধুর অবস্থা গুরুতর। উন্নত চিকিৎসা না পেলে তার দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রেখার বড় ভাই রেজাউল আলম জানান, বিয়ের সময় যৌতুক বাবদ নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও গৃহস্থালি সামগ্রী দেওয়া হয়। তারপরও নতুন করে যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময়ে তার বোনের ওপর অমানুষিক নির্যাতন অব্যাহত রাখে বাচ্চু। বোনের কথা ভেবে প্রায়ই বোনজামাইকে সাধ্যমতো টাকা দেওয়া হতো। কিন্তু এবার সে আরেকটি অপরাধ ঘটিয়েছে। তার বোনের অনুমতি ছাড়াই আরেকটি বিয়ে করেছে বাচ্চু। যার কারণে তার বোনের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেছে বলে জানান রেজাউল।
তিনি আরো জানান, আজ সোমবার সকালে বাচ্চু রেখাকে পুনরায় যৌতুক বাবদ ৫০ হাজার টাকা এনে দিতে বলে। টাকা দিতে না পারায় রেখাকে লাঠি দিয়ে প্রচণ্ড মারধর করে। লাঠির আঘাতে তার মাথা, চোখ, নাক, পিঠ, ঘাড় ও হাত-পায়ের বিভিন্ন অংশ থেতলে গেছে।
চার সন্তানের জননী রেখা বেগম হাসপাতালে শুয়ে কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, বিয়ের পর থেকেই তাকে যৌতুকের জন্য নানাভাবে নির্যাতন চালানো হতো। তবে সম্প্রতি হঠাৎ করে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। এখন তাকে বারবার বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্যও বলা হয়। রেখা যেতে না চাইলে এক পর্যায়ে বাচ্চু জানায় সে আরেকটি বিয়ে করেছে। এখন আর রেখাকে তার প্রয়োজন নেই। এ কথা বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রেখা।
তিনি বলেন, ‘সে হাজার নির্যাতন করেছে। তবু আমি সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে সংসার করেছি। এখন সে আরেকটি বিয়ে করেছে। চারটি ছোটো ছোটো সন্তান নিয়ে এখন আমি কোথায় যাবো? কি করবো?’ কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি স্বামীর বিচার দাবি করেন।
এদিকে এই ঘটনার পর থেকে বাচ্চু জমাদ্দার পলাতক রয়েছেন। পলাতক থাকায় তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মহম্মদপুর থানার ওসি শেখ আতিয়ার রহমান জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।


