মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরা-সহ সংলগ্ন এলাকায় গনগনে গ্রীষ্ম এমন ধুন্ধুমার শুরু করেছে, তাতে দুপুরে অফিস-কাছারি থেকে বাইরে না-বেরোনোর বিজ্ঞপ্তি জারি হলেই যেন ভাল হয়!। প্রাণ বেড়িয়ে যাবার অবস্থা। এমনটাই বলছেন প্রবীন ব্যক্তিরা।
এই একই পরামর্শই দিয়েছেন চিকিৎসকেরাও। সাবধান করে দিয়ে চিকিৎসকেরা বলেছেন, খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দুপুরে বেরোবেন না। আর যদি বেরোতেই হয়, তা হলে যত দ্রুত সম্ভব কাজ মিটিয়ে ঘরে ফিরুন। কারণ, বেলা ১০টা না বাজতেই সূর্য আগুন ঝরাতে শুরু করছে। সঙ্গে জলীয় বাষ্প যোগ হয়ে বাড়িয়ে তুলছে বিপদ।
এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এইমূহুর্তে মাগুরাতে কাজ করছে মাগুরার একমাত্র ২৪ ঘন্টার সংবাদমাধ্যম ‘মাগুরা নিউজ’ এবং এ উদ্দোগের সহযোগি হিসাবে কাজ করছে মাগুরার দন্ত চিকিৎসকদের সংগঠন ‘মাগুরা ডেন্টাল সার্জন এসোসিয়েশন’। ধুন্ধুমার এই গরমের দুপুরে শ্রমজীবি মানুষকে ঠান্ডাপানি ও খাবার স্যালাইন দেবারও উদ্দোগ নেয়া হয়েছে।
সুবিধাবঞ্চিত শ্রমজীবি মানুষকে দুপুরে ঠান্ডাপানী ও খাবার স্যালাইন দেবার এ মহৎ প্রানদায়ী এ উদ্দোগে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন আয়োজকেরা। মাগুরাবাসীকে আহবান জানিয়েছেন যে যার অবস্থানে থেকে দুপুরে শ্রমজীবি মানুষকে ঠান্ডাপানি ও খাবার স্যালাইন খেতে দেবার জন্য।
প্রাণদায়ী এ উদ্দোগে সহযোগিতার জন্য মাগুরাবাসী ০১৮৫৫৪৮৫৫৩৮ নাম্বারে ফোন করতে পারেন। আপনাদের সহযোগিতায় প্রাণপাবে মাগুরার তৃঞ্চার্ত কোন মানুষ। যিনি আপনার আমারই কোন স্বজন।
মাগুরাবাসীর জন্য মাগুরার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শঃ
চিকিৎসকেরা বলছেন, অত্যধিক গরম ও রোদের ফলে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে। এমনকি সানস্ট্রোকের কথাও বলা হচ্ছে।
প্রবল গরমে হৃদযন্ত্র বিকল হতে পারে, সে জন্য সাবধান করেছেন চিকিৎসকেরা। কার্ডিয়াক সার্জেনরা মনে করেন, ‘গরমে হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে, সোডিয়াম-পটাসিয়াম কমে যায়, শরীরে তরল কমে কিডনিতে সমস্যা দেখা দেয়। এর থেকে বাঁচার উপায়, প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়া।’
তবে যাঁদের হার্ডের সমস্যা আছে, তাঁরা বাড়তি পানি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
ছাতা-সানগ্লাসের ব্যবহার, প্রচুর পানি ও টাটকা ফলের রস খাওয়ার কথা বলেছেন চিকিৎসকেরা। পরতে বলেছেন সুতির হাল্কা, ঢিলেঢালা পোশাক।
ট্রাফিক পুলিশের মতো যাঁরা দিনভর রোদ মাথায় নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের বেশি করে পানি খাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
তবে গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে অনেকেই ওরাল স্যালাইন খেয়ে থাকেন। কিন্তু অনর্থক ওআরএস খাওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন।
চিকিৎসকদের মতে, টানা এক ঘণ্টা বা তার বেশি রোদে থাকলে কিংবা কোনও কারণে শরীর থেকে হঠাৎ প্রচুর পানি বেরিয়ে গেলে তবেই ওআরএস খাওয়া যেতে পারে।গরমের দুপুরে ভাতঘুমের পরামর্শ চিকিৎসকদের।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাচ্চাদেরও বেশি করে পানি খাওয়ানো দরকার। তবে যখন-তখন ওআরএস না খাওয়ানোই ভাল। পানীয় পরিস্রুত না হলে জন্ডিসের আশঙ্কা রয়েছে।
তবে রোদে না বেরোলেই যে স্বস্তি, তা নয়। ঘরে বসেও গরমের হাত থেকে রক্ষা মিলছে না। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তাপ ছড়াচ্ছে পাখার বাতাস। তখনও কিন্তু শরীর ঠান্ডা রাখা জরুরি।
ডায়েটেশিয়ানদের পরামর্শ, এই গরমে শশা, লাউ, পেঁপে, চালকুমড়ো, ঝিঙে খাওয়া দরকার। এগুলো শরীরে পানির অভাব হতে দেয় না। ডাবের পানি, লবন-চিনির পানি খেলে শরীরে সোডিয়াম-পটাসিয়ামের ভারসাম্যও বজায় থাকে।
এছাড়া পান্তাভাত, টক দই, কাঁচা আম, আম-পোড়ার সরবতের মতো সাবেক ঘরোয়া টোটকার উপকারিতার কথাও অনেকেই বলছেন।
গরমে অনেকের নাকের ভিতরটা শুকিয়ে যায়। সেখানে কিছু উপশিরা ফেটে অনেক সময়ে রক্ত বেরোয়। এমন পরিস্থিতিতে ভয় না পেয়ে অসুস্থ ব্যক্তিকে ছায়ায় নিয়ে গিয়ে কাত করে শুইয়ে দিতে হবে, যাতে রক্তটা বেরিয়ে যায়। এসব এড়াতে গরমে মুখ ধোওয়ার সময়ে নাকেও বারবার পানি ছেটাতে হবে।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, জীবাণুর সংক্রমণ এড়াতে ইমিটেশন গয়না, চামড়ার ব্যান্ডের ঘড়ি ব্যবহার না করলেই ভাল। শরীর ঠান্ডা রাখতে গোসল করুন, তবে তা যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়। তা হলে ত্বকের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।


