মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরায় মৎস্যজীবীদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত অভয়াশ্রম প্রকল্পে ৬০০ মৎস্যজীবীর ভাগ্য নয়, বদলেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাগ্য।
ফ্রি স্টাইলে অর্থ লুটপাটের কারণে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও নিরাপদ প্রজননের মাধ্যমে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির ‘অভয়াশ্রম’ প্রকল্প কার্যত মুখথুবড়ে পড়েছে।
মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, অভয়াশ্রম প্রকল্প তৈরিতে সরকারিভাবে ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও নামমাত্র কাজ দেখিয়ে প্রকল্পের সব অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভয়াশ্রমের ৮টি প্রকল্পের প্রতিটিতে দেড় লাখ টাকা করে বরাদ্দ থাকলেও কোনো প্রকল্পেই ২০ হাজারের বেশি ব্যয় করা হয়নি।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, মাগুরা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নবগঙ্গা নদীর মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর সেতুর নিচে, সদর উপজেলার নবগঙ্গা নদীর আলোকদিয়া সেতুর নিচে, কুমার নদীর আঠারখাদা গ্রামে, পানিঘাটা সেতু এলাকায়, শ্রীপুর উপজেলা সদরে কুমার নদীর সেতু এলাকা, গড়াই নদীর কোদলা গ্রামে, শালিখা উপজেলার ফটকি নদীর হাজরাহাটি ও চুকিনগর গ্রামে মোট আটটি অভয়াশ্রম তৈরি করা হয়। মাছের বংশ বিস্তারের পাশাপাশি দেশি মাছের বিলুপ্তি রোধ করতেই এই অভয়াশ্রম তৈরি।
বলা হয়েছিল, অভয়াশ্রম প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে একদিকে যেমন মাছের উৎপাদন বাড়বে পাশাপাশি নদীর জীববৈচিত্র ফিরে আসবে। এতে অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাৎপদ এ এলাকার জনগণের দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবিকা নির্বাহ নিশ্চিতকরণের বিষয়টিও ছিল।
মোট ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রতি প্রকল্পে ২০০ জন করে ১৬০০ উপকারভোগী মৎস্যজীবী জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও জেলার কোনো মৎস্যজীবী এ প্রকল্প থেকে কোনো প্রকার সুবিধা পাননি। যেনতেনভাবে তৈরি করা অভয়াশ্রমগুলো বর্ষা মওসুমের পানিতে ভেসে গেছে। অভয়াশ্রমগুলো পানিতে ভেসে যাওয়ায় প্রকল্পটি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
মৎস্য বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, দেশি মাছ বিশেষ করে পাবদা, পুঁটি, টেংরা, শৈল, টাকি, রয়না, বাইন, মাগুর, কৈ, রুই, কাতলা, মৃগেল, বোয়াল আইড়, চেলা ও চাপলিসহ অন্যান্য মাছ যাতে নদীতে অবাধ বিচরণের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করতে পারে মূলত সেজন্যই এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল।
ডিম পাড়ার মওসুমে চার মাস মাছ শিকার বন্ধ, কারেন্ট জাল, নেট জাল অথবা আড়বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধসহ নদীতে মাছ পরিচর্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মৎস্যজীবীদের সচেতন করার কথা থাকলেও এসব ক্ষেত্রে মৎস্য বিভাগের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
বিনোদপুরের নবগঙ্গা তীরের বাসিন্দা আব্দুর রউফ মিয়া বলেন, ‘একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েই মৎস্যবিভাগ দায়িত্ব শেষ করেছে। তাদের আর এখানে কোনদিন দেখা য়ায়নি।’
মাগুরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর নন্দী প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ অর্থই ব্যয় করা হয়েছে। তবে বর্ষাকালে নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কোনো কোনো অভয়াশ্রম তলিয়ে গেছে।’


