মাগুরানিউজ.কমঃ

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্রের চিকিৎসা দেয়ার মূল ঘরটি বন্ধ হয়ে গেছে এক যুগ আগেই। পরিত্যাক্ত ওই ঘরে আশ্রয় হয়েছে ইঁদুর, তেলাপোকসহ বিভিন্ন পোঁকামাকড়ের।
কর্মরত দু’জন ডাক্তার রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন উপ-কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিকের একটি ছোট কক্ষে বসে। শুধু তাই নয়-কর্মচারী সংকট, সৌচাগারের অভাব, পানি সংগ্রহের জন্য টিউবওয়েল না থাকাসহ বিভিন্ন সমস্যায় বেহাল অবস্থায় চলছে এখানের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ।
রোগীদের জন্য ১০টি শয্যা হওয়ার কথা থাওলেও গত ৭ বছরেও তার কাজ শুরু হয়নি । ফলে সেখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের পোহাতে হচ্ছে নানা ধরনের ভোগান্তি।
উপকেন্দ্রে গেলে দেখা যায়, এ স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রটির নিজেস্ব টিনসেড ঘরটি জরাজীর্ণ অবস্থায় বন্ধ পড়ে আছে। এক যুগ আগে থেকেই সেখানে চিকিৎসা দেয়া বন্ধ রয়েছে।
এলাকার বরীন্দ্রনাথ বিশ্বাস, আব্দুস সত্তার, সাঈদ মোল্যা, মুকুল হোসেনসহ অনেকেই জানান, বিনোদপুর থেকে মাগুরা সদর হাসপাতালের দূরত্ব ১১ কিলোমিটার, মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দূরত্ব ১২ কিলোমিটার। এ কারণে এখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে এলাকাবাসী এই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব ভবন না থাকাসহ কেন্দ্রটির সংস্কার না হওয়ায় এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তির শেষ থাকে না।
জানা যায়, দেশ স্বাধীনের পরপর নবগঙ্গা নদীর পাড়ে হেমন্ত কুমার নামে এক ব্যক্তির দেয়া ৫০ শতক জায়গায় সরকারি দাতব্য চিকিৎসালয় নামে বিনোদপুর স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রটি চালু হয়। ১৯৮৫ সালে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্র চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত এখান থেকেই চিকিৎসা নিত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কিন্তু সংস্কার না হওয়ায় এক সময় এখানে রোগীদের সেবা দেয়া বন্ধ হয়ে যায়।
সাত বছর আগে এখানে ১০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টি সরকারিভাবে অনুমোদিত হলেও নানা তালবাহানায় তার কাজ অদ্যাবধি শুরু হয়নি। সরকারিভাবে অনুমোদনের পর হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় লোকবলও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু জায়গা না পাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে এটির নির্মান বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
বিনোদপুর স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ আলী ও শারমীন আলম জানান, এখানে ফার্মাসিস্ট ও এমএলএসএস’র পদ দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য থাকার পাশপাশি নানা সমস্যায় রয়েছে। তবুও এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য সেবার কথা চিন্তা করে তাদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিনোদপুর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বেহালদশার কথা স্বীকার করে বলেন, এটি নির্মানের জন্য যে জমির প্রয়োজন তা না পাওয়ায় ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বিনোদপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুজ্জামান ১০ শয্যার হাসপাতালের ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিয়েছেন।

