‘মাগুরার এই ছেলে এক ভুল দু’বার করে না’

মাগুরানিউজ.কমঃ

news_img

২০০৬ থেকে ২০১৫। মাঝখানে ১০ বছর। তবে গোড়াপত্তনেরও একটা গল্প থাকে। সাকিবের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। অভিষেক ম্যাচের দিন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন হাবিবুল বাশার। যার হাত ধরে পরিবর্তনের পথে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট। প্রথম ম্যাচেই অধিনায়কের জন্য বিস্ময় তৈরি করেছিলেন সাকিব। এরপর গত এক দশকে জগতের অনেক নিয়মেরই পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু একটি বিষয়ে কোন পরিবর্তন হয়নি। প্রায় প্রতিদিনই বিস্ময়ের ধারা অব্যাহত রেখেছেন সাকিব।

মাঠে এবং মাঠের বাইরে সাকিব আল হাসান অবশ্যই ব্যতিক্রম। যা বিশ্বাস করেন তাই বলেন। এটা অবশ্য কখনও কখনও বিপদও ডেকে এনেছে তার জন্য। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপণতো তিনিই। দুনিয়ার যেখানেই খেলতে গেছেন দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।

সাবিকের ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু হলো কীভাবে? কীভাবেই বা নিজেকে উন্নীত করলের বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ চূড়ায় তারই গল্প বলেছেন সাবেক ক্রিকেটার হাবিবুল বাশার। বাশারের বলা সেই গল্পটাই হুবহু তুলে ধরা হলো।

“ছেলেটা দেখতে খুবই হ্যাংলা-পাতলা, আগে সেভাবে কখনো পরিচয় হয়নি, খেলাও দেখিনি। ফলে প্রথম দলে পেয়ে খুব একটা মুগ্ধ হয়ে গেছি বলা যাবে না। বরং দলে তখন রফিক ছিল, রাজ্জাক ছিল, ওদের ভিড়ে আরেকটা বাহাতি স্পিনারকে সেভাবে খুব খেয়াল করে দেখিনি।

তারপরও যেহেতু বলা হচ্ছিল, ছেলেটার ভবিষ্যত ভালো, তাই ওকে একটা ম্যাচ খেলানোর ইচ্ছা ছিল। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটা অনুশীলন ম্যাচে ওর বোলিং দেখে সে ইচ্ছেটাও নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। জিম্বাবুইয়ানরা স্পিন একদমই ভালো খেলে না, বাঁহাতি স্পিনতো বুঝতেই পারে না। সেখানে প্রায় সবাই ভালো খেলেছে। এরপর আর ছেলেটাকে মাঠে নামানোর ইচ্ছে থাকে?

ইচ্ছে ছিল না। তারপরও সিরিজের শেষ ম্যাচে মুশফিককে প্রথম ম্যাচ খেলানো হলো; সঙ্গে আমরা ওই ছেলেটাকেও একটা চান্স দিলাম- সিরিজ তো হেরেই গেছি, খেলুক না হয় একটা ম্যাচ।

আমার জীবনে সবচেয়ে বড় বিস্ময়টা ওই ছেলেটা উপহার দিয়েছিল সেদিন। অনুশীলন ম্যাচে কাকে দেখেছিলাম, আর আজ কাকে দেখছি! ব্যাট হাতে দলের ম্যাচ বের করে আনা ৩০ রানের একটা ইনিংস খেললো বটে। কিন্তু আমি মুগ্ধ হলাম বোলিং দেখে-অবিশ্বাস্য।

সেই অনুশীল ম্যাচের প্রতিটা ভুল সে মাথায় রেখেছে। সেদিন যা যা করেছিল, তা কিচ্ছু করল না। একেবারে নতুন করে যেন নিজেকে চেনাল। সেদিনই একটা কথা বুঝেছিলাম- এই ছেলে এক ভুল দু বার করে না।”

বাশারের কথার রেশ ধরেই বলতে হয়, আইপিএল, বিগব্যাশ, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ কোথায় ঝড় তুলেননি সাকিব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেতো গত এক দশক ধরেই আমাদের প্রধান খেলোয়াড় তিনি। আমাদের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান, অন্যতম সেরা বোলার, অন্যতম সেরা ফিল্ডারও সাকিব। বিশ্ব ক্রিকেট ইতিহাসেই এমন অলরাউন্ডার অনেকটাই বিরল।

এদিকে ভারতের বিপক্ষে বুধবার থেকে আবারও মাঠে নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। স্বভাবতই সবচেয়ে বড় ফোকাস সাকিবের দিকেই। যদিও পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে বল হাতে অনেটাই নিষ্প্রভ ছিলেন তিনি।

তবে ভারতের বিপক্ষে এবার কী করেন সাকিব সেটাই এখন দেখার বিষয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগেই বাংলাদেশকে ফেভারিট ঘোষণা করেছিলেন তিনি। ভারতের বিরুদ্ধে তেমন ঘোষণা দেননি। তবে বলেছেন, ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জিততে পারলে তা হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। আর এমন ইতিহাস গড়ার মূল কাজটি যে বহুলাংশে সাকিবকেই করতে হবে তা নিশ্চয় কারো অজানা নয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
%d bloggers like this: