মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরাতে নতুন ধানের স্বপ্নে নবউদ্যোমে কৃষকেরা আছেন মহানন্দে। মাঠের পর মাঠ পেরিয়ে, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছুঁয়ে গেছে এই স্বপ্ন, এই আনন্দ।বোরো ধানকাটা শুরু হয়েছে। ধানকাটার উৎসবে কৃষক-কৃষাণীদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে।
মাগুরাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি বোরো মৌসুমে ৩৬ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ২১ হেক্টর জমিতে, উফশী জাতের ধান আবাদ হয়েছে ২৭ হাজার ৯৪৯ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার ৩৪২ হেক্টর বেশি জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে (চাল আকারে) এক লাখ ৪৮ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন।
এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১৭ হাজার ২৭৪ হেক্টরে হাইব্রিড, ৫১ হাজার ৯৯০ হেক্টরে উফসী, মহম্মদপুরে ১ হাজার ৭০ হেক্টরে হাইব্রিড, ৫১৬ হাজার ২৫৪ হেক্টরে উফসী, শালিখায় ১৯ হাজার ১৬০ হেক্টরে হাইব্রিড, ৩১ হাজার ৭৭৩ হেক্টরে উফসী ও শ্রীপুর উপজেলায় ৮২৬ হেক্টরে হাইব্রিড, ১০ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমিতে উফসী জাতের বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে।
গত মৌসুমের চেয়ে চলতি মৌসুমে বোরোর আবাদ যেমন বেড়েছে, তেমনি ফলনও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। মাগুরা সদর উপজেলার আলমখালীর শাহাবউদ্দীন বলেন, চারিদিকে এখন নতুন ধানের সুবাস, নতুন স্বপ্ন, নবউদ্যোম।
বয়োবৃদ্ধ আবুল খায়ের মাগুরা নিউজ’কে জানান, এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। তিন শতক জমিতে দেড় থেকে দুই মণ করে ধাণ ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। নাঈম হাসান টিটো জানান, বর্তমানে প্রতিমণ ধান ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রতিমণ ধান ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হলে কৃষকের কিছু লাভ থাকবে।
সত্যিপুর গ্রামের এনায়েত মাগুরা নিউজ’কে বলেন, আমাদের বাজারে ধানের দাম অনেক কম। হাটে মণপ্রতি ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারি নজরদারি প্রয়োজন। সোহান জানান, এখন মাঠের পর মাঠজুড়ে শুধু সোনালি ধান। বাতাসে সোনালি ধান দুলছে। কৃষকের মনে অনেক আনন্দ লাগছে।
কুচিয়ামোড়া গ্রামের তরিকুল ইসলাম মাগুরা নিউজ’কে জানান, এ বছর মাঝে-মধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় বোরো ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে কৃষকেরা ভালোভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। সদরের আঠারখাদাখাদা গ্রামের সাজেদা বলেন, ধানমাড়াইয়ের জন্য উঠানবাড়ি এবং ধান সংরক্ষণের জন্য ‘গোলা’সহ বিভিন্ন উপকরণ প্রস্তুত করেছি।
এদিকে, সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন মাঠে বোরো ধানকাটা শুরু হয়েছে। তবে, শ্রমিকসংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে ধানকাটা এবং ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকেরা। বিভিন্ন হাটে জনপ্রতি ৪০০ টাকা হারে শ্রমমূল্য বিক্রি হয়েছে।
ইতিমধ্যে স্থানীয় কৃষি বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কাটার উদ্বোধন করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় কৃষক আগাম জাতের ব্রি-২৮, ২৯ ও হাইব্রিড এল সি- ৮ জাতের ধান কাটতে শুরু করেছেন। ধানের মাড়াই পর্যালোচনা করে কৃষি বিভাগ বাম্পার ফলনের কথা জানিয়েছেন।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক পার্থ প্রতিম সাহা মাগুরা নিউজ’কে জানান, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় সার ,বীজ, ডিজেল ও বিদ্যুৎ সংকট না হওয়ায় বোরোর বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড়, শীলা বৃষ্টি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার বোরোর বাম্পার ফলন আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



