মাগুরানিউজ.কমঃ
স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় মাগুরা সদর উপজেলার শিবরামপুর এলাকায় সালমা আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূকে ঘরে আটকে মারাত্মক নির্যাতন চালিয়েছে এক লম্পট স্বামী।নির্যাতনের এক পর্যায়ে ওই গৃহবধূকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখলে পুলিশের সহযোগিতায় মঙ্গলবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সালমার স্বামী মতিউল ইসলাম চপল থেকে পালিয়ে যায়।
মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি নির্যাতিতা নারী সালমা আক্তার জানান- ১০ বছর আগে সদর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের কালাম শেখের ছেলে চপলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই চপল তার কাছে বাবার বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দিতে থাকে। সালমা তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে সালমাকে মারপিট করা শুরু করে।
এরই মধ্যে তাদের সংসারে দুই সন্তানের জন্ম হয়। সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করে আসছেন। সম্প্রতি সালমা জানতে পারেন চপল ফরিদপুরে এক স্বামী পরিত্যাক্তা মহিলার সঙ্গে পরকীয়ায় আবদ্ধ হয়েছে।
এ অবস্থায় সে স্বামীকে ওই পথ থেকে সরে আসতে অনুরোধ করলে চপল তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মেরে মারাত্মক জখম করে। বাবার বাড়ির লোকদের যেন খবর দিতে না পারে এ জন্য সে সালমাকে ঘরের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখে।
মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে সালমার ভাই সবুজ ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মাগুরা সদর থানায় এসে পুলিশের কাছে খবর দেয়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় সালমাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ব্যাপারে মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং-৫/০৪.০২.১৪)।
মাগুরা সদর থানার ওসি এমএ হাসেম জানান- আমি নিজে গিয়ে নির্যাতনের শিকার সালমাকে উদ্ধার করেছি। তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার স্বামী চপলকে গ্রেফতারের জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।

