মাগুরানিউজ.কমঃ
শুক্লাপঞ্চমীতে আসে মুক্তির আহ্বান। রোজকার ইউনিফর্ম থেকে মেলে ছুটি।স্কুল-কলেজে পিরিয়ডের ঘণ্টা বাজে না। বাসন্তী রঙের শাড়ি পরে মেয়েরা হয়ে ওঠে রূপকথার রাজকন্যে৷উলটো দিকে পাজামা-কুর্তায় সাবালক হয়ে ওঠার আপ্রাণ প্রয়াস। রোজ আড়চোখে দেখা মনের মানুষের সঙ্গে সলাজে এক-আধ টুকরো কথা,এটাই তো সরস্বতী পুজোর আসল প্রাপ্তি।বড়দের চোখরাঙানি নেই,স্কুল-কলেজের রেষারেষি নেই, দল বেঁধে এ স্কুল ও স্কুল,এ কলেজ ও কলেজ করতে করতে দলছুট জোড়ার আচমকা বসে পড়া চেনা পার্কে, চেনা সিনেমা হলে, অচেনা অনুভূতি নিয়ে।কারও কারও আবার খোলা মাঠের এককোণে বসে দাঁতের ফাঁকে ঘাস কাটা। হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল।একদিনের পাওয়া স্বাধীনতায় পুষ্পাঞ্জলির ফুল মৃণ্ময়ীর পদতলে না গিয়ে চিন্ময়ীর দিকে ঠিকরে চলে যায়। পূজার ফুল ভালোবাসা হয়ে যায়৷ প্রসাদ-খাবারদাবার সেদিন নেহাতই ঘরোয়া, কিন্তু একসঙ্গে খেতে বসা এবং পরিবেশেনর লোভটুকু ছাড়তে পারে না কেউই।মুঠোয় লুকিয়ে কুল-শাঁকালুর দু’কুচি তাকেই যে পৌঁছে দিতে হবে!
সরস্বতী পুজো মানে লাগামছাড়া হাসি, শ্যাম্পু দিয়ে স্নান করে ভালো সাজগোজ, বহু দিনের ধুলো-ধোঁয়ার মলিনতা মুছে কত চার চোখের মিলন৷ কবে থেকে শুরু হয়েছে গুঞ্জন, কেউ তার হিসেব রাখেনি। সদ্য কৈশোর থেকে ধাপে ধাপে তারুণ্যের স্পর্ধা এদিন যাবতীয় বাধানিষেধ অমান্য করে বহে বসন্ত সমীরণের মতো।যৌবন জলতরঙ্গ রোধিবে কে! সরস্বতী পূজা মানে বাঙালি ছেলেমেয়েদের নাবালকত্ব থেকে সাবালকত্বের দেউড়িতে হাতেখড়ি।ভক্তি কম, উৎসব বেশি।


