মাগুরানিউজ.কমঃ
আগামীকাল শুক্রবার সঞ্চিতার বিয়ে। সদ্য জেএসসি পীরক্ষা শেষ করে সহপাঠীরা যখন নবম শ্রেণি পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে; কিংবা দাদার বাড়ি নানার বাড়িতে ব্যস্ত সময় পার করছে- তখন ওর ব্যস্ততা সংসারের জোঁয়াল কাঁধে তুলে নেওয়ার। ছোট সঞ্চিতাকে তাই দিন-রাত সংসারের সাতকাহনের তালিম নিতে হচ্ছে। ভালো পাত্র বলে কথা! সেটি কি আর চাইলেই যখন-তখন পাওয়া যায়? তাই ওর বিয়ে দিতে আদাজল খেয়ে লেগেছেন কন্যাদায়গ্রস্ত বাবা-মা। আগামীকাল শুক্রবারই সেই শুভদিন!
সঞ্চিতা রাণী মহুরী (১৩)। মাগুরার মহম্মদপুরের চালমিয়া গ্রামের নরেশ চন্দ্র মহুরীর মেয়ে। স্থানীয় বাবুখালি আফতাব উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছে সে।
আগামীকাল শুক্রবার মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সোনাইকুন্ডি গ্রামের গোপাল চন্দ্র মিত্রের ছেলে কমল মিত্রের সঙ্গে তার বিয়ের সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। তোরণ নির্মাণসহ অতিথিদের আমন্ত্রণপত্রও বিতরণ হয়ে গেছে।
সঞ্চিতার প্রতিবেশী স্কুলশিক্ষক আব্দুল কাইয়ুম মিয়া জানান, শুক্রবার অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে সঞ্চিতার বিয়ে সম্পাদনের দিন ধার্য করেছেন তার বাবা।
সঞ্চিতার বাবা নরেশ মহুরী জানান, ভালো এবং যোগ্য পাত্র পাওয়ায় মেয়ের বিয়ে দিচ্ছেন। তবে বাল্যবিবাহ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
সঞ্চিতার স্কুল বাবুখালি আফতাব উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন আলী খান জানান, মেয়েটি তার স্কুল থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। মেয়ের বাবা তাকে বিয়ের আমন্ত্রণপত্র দিতে আসলে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। মেধাবী এই ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ না দিতে তাকে অনুরোধ করেছেন বলেও জানান প্রধান শিক্ষক।
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে মেয়ের বাবাকে বুঝিয়ে বিয়ে বন্ধ করার উদ্যেগ নেওয়া হচ্ছে।’
আদৌ কি সঞ্চিতার অভিশপ্ত বিয়েটা বন্ধ হবে? নাকি প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই বৃন্তচ্যুত হবে একটি কুসুমিত কুঁড়ি?
তা দেখবার জন্যে আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে আরো কয়েকটি ঘণ্টা।

