শালিখার ঐতিহ্যবাহি অমিত্ব কুন্ডুর দোহা এখন বিলুপ্তির পথে

মাগুরানিউজ.কমঃ

images (5)মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী ধোপাপাড়ার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহি অমিত্ব কুন্ডুর দোহাটি সংস্কার না করায় বর্তমানে প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে গেছে। প্রায় ১৩ একর জমির উপর এই দোহাটিতে এক সময় কানায় কানায় ভারে থাকত পানি। দোহাটির গভীরতা ছিল ৩০/৪০ ফুট।

বিভিন্ন জাতের অতিথি পাখি ও শত শত হাঁস দোহাটির থৈ থৈ পানিতে ভেসে বেড়াতো। রুই, কাতলা, বোয়াল, শৈল, গজাল, কই, শিং, মাগুর, পুঁটি, টেংরা, রয়না, কাকলেসহ বিভিন্ন জাতের দেশি মাছ দোহাটিতে পাওয়া যেত। এলাকার কামার-কুমার, জেলে-ধোপা, নাপিত, ঋষিসহ প্রায় সব গোত্রের মানুষ জাল ফেলে ও বড়শী ফেলে মাছ ধরত।

মাছ ধরার প্রতিযোগিতায় এলাকায় হৈ চৈ পড়ে যেত। গ্রামের হত দরিদ্র পরিবারগুলো দোহা থেকে মাছ ধরে স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত গোসলসহ তাদের দৈনন্দিন পানির চাহিদা মেটাতো। তাছাড়াও গরু ও মহিষের গোসল করাতো।

কিন্তু দোহাটি বর্তমানে খাস হওয়ায় এককভাবে কারো নজর নেই। দোহার চারপাশ মাটি ও আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে কিছুটা পানি ধারণ করলেও অন্যান্য মৌসুমে দোহাটি শুকিয়ে খাঁ খাঁ করে। বেশির ভাগ অংশ মাটিতে ভরাট হয়ে গেছে। দোহার আশপাশে শত শত বিঘা ফসলী ও বসত বাড়ি রয়েছে।

গ্রামবাসী জানান, শতখালী গ্রামটি বন্যা কবলিত এলাকা হওয়ায় ফসলী জমির পানি নিস্কাশনের সুবিধার্থে এছাড়াও শুকনো মৌসুমে ফসলী জমি শুকিয়ে গেলে এ দোহা থেকে পাম্প দিয়ে কৃষকের জমিতে পানি দেয়া হত। ফলে দোহাটিতে পানি না থাকাই এলাকার মানুষের নানামূখী সমস্যার সমূখীন হতে হয়। দোহাটির গভীরতা না থাকায় অনেকেই আবার ধানের পাতো দিয়ে ধান রোপন করে চলেছেন।

এলাকাবাসীর বক্তব্য-দোহাটি খনন করে যদি মাছের চাষ করা হয় এক দিকে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব পাবে অন্য দিকে এলাকার জনগণ ফিরে পাবে তাদের ঐতিহ্য।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

August ২০২২
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

August ২০২২
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
%d bloggers like this: