মাগুরানিউজ.কমঃ
একসময় মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পূর্বপাশ দিয়ে প্রবাহিত মধুমতী নদীতে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেত। এর খ্যাতিও ছিল দেশজোড়া। মধুমতী নদীতে ভরা মৌসুমেও মিলছে না রুপালি ইলিশ। শত শত জেলে প্রতিদিন জাল ফেললেও হতাশ হয়ে কিনারে ফিরছেন।
জেলা মৎস্য অফিস জানায়, জলবায়ু পরিবর্তন হওয়ায় ইলিশের পরিভ্রমণের সময় পরিবর্তিত হয়েছে। এতে মৌসুম থাকা সত্ত্বেও জালে ধরা দিচ্ছে না ইলিশ। তবে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত বাড়লেই ইলিশ পাওয়া যাবে। গত কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুম অনেকটা দেরিতে শুরু হচ্ছে। এটা ইলিশ ধরা না পড়ার অন্যতম কারণ। শ্রাবণ মাসে ভারি বৃষ্টিপাত হলে ইলিশের প্রাচুর্য বাড়বে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগর-নদীতে ডুবোচর জেগেছে। নদ-নদীর পানি কমে যাচ্ছে। ফলে মাছের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। ইলিশ মাছ ঝাঁক বেঁধে সোজাসুজি চলাচল করে। বাধা পেলে গতিপথ পরিবর্তন করে তারা।
প্রজননের সময় মিঠা পানিতে চলে আসে ইলিশ। কিন্তু ডুবোচরের কারণে নাব্য কমায় মাছের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এ ছাড়া, বিভিন্ন রাসায়নিক পানিতে মিশে তা দূষিত হচ্ছে। এ কারণে প্রজননের সময় মিঠা পানিতে আসতে না পারায় ইলিশের প্রজননও কমে যাচ্ছে। কমে যাচ্ছে ইলিশের সংখ্যা।
জেলেরা জানান, তারা নদীতে ইলিশ ধরতে জাল ফেলছেন। নৌকা নিয়ে জেলেরা ইলিশের সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। কিন্তু ইলিশের দেখা মিলছে না। এ মৌসুমের প্রায় দুই মাস পার হলেও ইলিশ না পাওয়ায় তারা দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন।
জেলেরা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অথবা মহাজনের কাছ থেকে দাদনের টাকা নিয়ে নতুন করে নৌকা ও জাল সংগ্রহ করেছেন। মাছ না পাওয়ায় তারা ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন।
মহম্মদপুর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা লিয়াকত আলী বলেন, নদীগর্ভে পলি জমে নদীর গভীরতা ও নাব্য কমে যাওয়ায় মধুমতিতে ইলিশ ধরা পড়ছে না। তিনি আরও বলেন, মূলত পদ্মায় কমে যাওয়ায় শাখা নদীতেও ইলিশ কমে গেছে।
পদ্মার শাখা নদী মধুমতী। গড়াই নাম নিয়ে ফরিদপুরে সীমানা দিয়ে মধুমতী নামে মাগুরায় প্রবেশ করে। মাগুরা নড়াইল ও গোপালগঞ্জের উপরদিয়ে বরিশালের বলেশ্বর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে এটি।

