মাগুরানিউজ.কমঃ
বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস দ্বিপদ নামকরণের মাধ্যমে জীবজগতের নামের নৈরাজ্য ঘুচালেও দৈনন্দিন জীবনে ফুল বা গাছের নামের ক্ষেত্রে দ্বিপদ নামকরণ ব্যবহার করা বেশ দুরুহ ব্যাপার। সাধারণ মানুষ ব্যবহার করে চলতি নাম, স্থানীয় নাম আর সেজন্য সর্বদাই ঘটে “নামবিভ্রাট”।
কৃষ্ণচূড়ার কথাই ধরা যাক। কৃষ্ণচূড়া কোনটি? পূর্ব আফ্রিকার বৃক্ষ Delonix regia নাকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের গুল্ম Caesalpinia pulcherrima?? তেমনি Peltophorum pterocarpum কে কেউ বলেন রাধাচূড়া, কেউ বা বলরামচূড়া।
কৃষ্ণচূড়া একটি বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। বৈজ্ঞানিক নাম Delonix regia। এই গাছ চমৎকার পত্র-পল্লব এবং আগুনলাল কৃষ্ণচূড়া ফুলের জন্য প্রসিদ্ধ। এটি Fabaceae পরিবারের অন্তর্গত একটি বৃক্ষ যা Royal Poinciana, Flamboyant, গুলমোহর গুলমোর প্রভৃতি নামেও পরিচিত।

মাদাগাস্কারের প্রজাতি এখন ছড়িয়ে গেছে উষ্ণমন্ডলীয় বহু দেশে। বাংলাদেশেও অন্যতম জনপ্রিয় বৃক্ষ। মাঝারী গাছ, মাথা ছড়ানো, পত্রমোচী। শীতে পাতা ঝরে গ্রীষ্মের শুরু পর্যন্ত নিষ্পত্র থাকে এবং নিষ্পত্র গাছেই ফুল ফুটতে শুরু করে। সারা গাছ কমলা-লাল ফুলে ভরে উঠে। সে এক অপূর্ব শোভা। পাতা ২-পক্ষল, ৬০ সে মি পর্যন্ত লম্বা, পত্রিকা ২০-৪০ জোড়া, ক্ষুদে,, ১ সে মি লম্বা। ফুল ৭-১০ সে মি চওড়া, ৫ পাপড়ির একটি বড় ও তাতে হলুদ বা সাদা দাগ। ফল ৪০-৬০ সে মি লম্বা, শক্ত ও পাকলে গাঢ় ধুসর বা প্রায় কালো। বীজে চাষ। কলমও ধরে।

ফুলের রঙে রকমফের দেখা যায়- শুদ্ধ হলুদ, কমলা ও সিদুরলাল।
এবার পরিচিত হওয়া যাক রাধাচূড়ার সাথে। Fabaceae পরিবারের সদস্য রাধাচূড়ার বৈজ্ঞানিক নাম- Caesalpinia pulcherrima ।

সম্ভবত ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রজাতি। ২-৩ মিটার উচু গাছ, কাঁটাভরা, অনেক ডালপালা। যৌগপত্র ২-পক্ষল, ২০-৩০ সেমি লম্বা, প্রতিটি পত্রে ৮-১২ জোড়া আয়তাকার পত্রিকা, ১.৫-২ সেমি লম্বা। সারাবছরই কয়েকবার ফুল ফোটে। ডালের আগায় ২০-৩০ সেমি লম্বা ডাটায় নিচ থেকে উপরের দিকে ফুল ফোটে। আমাদের দেশে দুটি ভ্যারাইটি চোখে পড়ে- একটির ফুল লাল-কমলা, অন্যটি হলুদ।

ফুল প্রায় ৩ সেমি চওড়া, পাপড়ির মাঝখানে উঠানো পুংকেশর। বীজ চ্যাপ্টা। বীজে চাষ। বসন্তে ছাটা আবশ্যক।
কনকচূড়া, যাকে এতদিন রাধাচূড়া ভেবে এসেছি তিনিও Fabaceae পরিবারের সদস্য। বৈজ্ঞানিক নাম- Peltophorum pterocarpum ।

কনকচূড়া/পেল্টোফরাম শ্রীলঙ্কা, আন্দামান, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়াইয় এন্ডেমিক প্রজাতি। প্রায় ২০ মিটার উচু, শাখায়িত, পত্রমোচী বড় গাছ। বাকল ধূসর। যৌগপত্র দ্বি-পক্ষল, ৩০-৫০*২০-৩০ সেমি, পক্ষ ৮-২৬ টি, পত্রিকা ক্ষুদে, ১*২ সেমি, উপর উজ্জল সবুজ, নিচ সাদাটে।গরমের শুরুতে গাছের কচি পাতার সাথে ফুল ফোটে।

খাড়া, ১৫-২৫ সেমি লম্বা শাখায়িত মঞ্জুরিতে কমলা রঙের অনেকগুলো সুগন্ধি ফুল। পাপড়ি ৫, মুক্ত, কুচকানো। পুংকেশর ১০, অসমান। ফল চ্যাপ্টা, ২-৬*২-৩ সেমি, শক্ত, তামাটে। ফুলের পর তামাটে রঙের গুচ্ছ গুচ্ছ ফলে গাছ ভরে ওঠে। বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার ঘটে।
তথ্যসূত্র- ফুলগুলি যেন কথা~ দ্বিজেন শর্মা

