এ লজ্জা রাখি কোথায়?

মাগুরানিউজ.কমঃ বিশেষ প্রতিবেদক–

আজকাল পত্রপত্রিকায় নানা ধরনের সংবাদ দেখি। কোনো কোনো সংবাদ পড়ে আনন্দিত হই (যদিও সে সংখ্যা খুবই কম)। কোনো কোনোটি পড়ে শঙ্কিত হই। আবার কোনো সংবাদ পড়ে হতাশ হয়ে পড়ি। আবার কোনটি রীতিমতো আতঙ্কগ্রস্ত করে তোলে। চিকিৎসক হচ্ছেন মহান পেশার অধিকারি। অথচ কতিপয় চিকিৎসক এই মহান পেশার মর্যাদাকে কী অবলীলায় ভূলুণ্ঠিত করে চলেছেন। পত্রপত্রিকায় তাঁদের কর্মকাণ্ড পড়ে মনে হচ্ছে, মানুষ বাঁচানোর কাজ থেকে তাঁরা বিস্মৃত হয়েছেন। এ লজ্জা আমরা রাখব কোথায়?

সম্প্রতি মাগুরা পলি ক্লিনিকের মালিক ডাক্তার মুক্তাদির রহমানের বিরুদ্ধে আবারো ভুল অপারেশন ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দুই নার্সকে দিয়ে এক গৃহবধূর শরীরে অস্ত্রপচারের অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী রোগির পরিবারের লোকেরা। যা নিয়ে স্থানীয় ও জাতিয় পত্রপত্রিকার কল্যানে ব্যাপক আলোচিত।

মাগুরা সদর উপজেলার আবালপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, ১৪ জানুয়ারী তিনি স্ত্রী তনু বেগমকে নিয়ে মাগুরা শহরে ডাক্তার মুক্তাদির রহমানের পলি ক্লিনিকে যান। সেখানে পরামর্শ নিতে গেলে ডাক্তার মুক্তাদির রহমান বলেন, রোগীর অবস্থা গুরুতর কিন্তু দ্রুত অপারেশন করলে কোন সমস্যা হবে না। গাইনী বিশেষজ্ঞ ও সার্জন দিয়ে কালই অপরেশন করে রোগি সুস্থ করে দেবেন বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু পরদিন ডাক্তার মুক্তাদির রহমান নিজে উপস্থিত না থেকেই রোগিকে ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে পাঠিয়ে দেন। ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে কর্মরত দুই নার্স তনুর পেট কেটে জরায়ুর টিউমার অপারেশনের চেষ্টা করেন। কিন্তু জরায়ু ও টিউমারে অতিরিক্ত চর্বি থাকায় নার্সরা ঘাবড়ে গিয়ে ডাক্তার মুক্তাদিরকে ফোন দেন। এ অবস্থায় তিনি মিনিট ১৫ পরে ক্লিনিকে পৌঁছে রোগির অবস্থা খারাপ দেখে নার্সদের তখনই সেলাই দিতে বলেন। এ ঘটনার পর ওটি থেকে বেরিয়ে ডাক্তার মুক্তাদির রহমান তাকে বলেন, রোগির অবস্থা ভাল না। দ্রুত ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরিচিত ডাক্তার আছেন তারা ব্যবস্থা নেবেন বলে, তিনি দ্রুত ক্লিনিক ত্যাগ করেন।

এ অবস্থায় আব্দুর রাজ্জাক স্ত্রী মিনুকে ফরিদপুর ডায়াবেটিক হা‌সপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার ডাক্তারগণ অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে ফিরিয়ে দেন। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মিনুকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশংকাজনক। আব্দুর রাজ্জাক পলি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে ভোগান্তির কারণে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি ও উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।

বিষয়টি নিয়ে ডাক্তার মুক্তাদিরের সঙ্গে গণমাধ্যম কর্মীরা যোগাযোগ করলে তিনি ভূক্তভোগি রোগির বিষয়ে কোন কথা না বলে, হম্বিতম্বি শুরু করেন। ‘আমার মত সার্জন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজেও একজন নেই’। ক্ষমতা থাকলে লিখে দেন বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

উল্লেখ্য, মাগুরা শহরের পলি ক্লিনিকের মালিক মুক্তদির রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এই প্রথম নয়। মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে নিয়োগকৃত দালালদের মাধ্যমে রোগি ভাগিয়ে তার ক্লিনিকে নিয়ে অপারেশন করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। সার্জন না হয়েও নিজস্ব ক্লিনিকে রোগি অপারেশন করতে গিয়ে তার হাতে অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। মাগুরা সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্বরত অবস্থায় অসাধু ব্যক্তিদের অনুকুলে তার সার্টিফিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালি ব্যক্তিদের সহায়তায় তিনি সব সময়ই পার পেয়ে গেছেন বলে ভূক্তভোগী অনেকেই জানিয়েছেন।

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: