মানবেতর জীবনযাপন করছে শালিখায় ফটকীর দুই পাড়ের সহস্রাধিক জেলে পরিবার

মাগুরানিউজ.কমঃ

Maminul-1415264657vb

শালিখা উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ফটকী নদী, বেগবতী, চিত্রা নদী, কানুদার খাল, পাতের খালসহ অসংখ্য খাল-বিলে একশ্রেণীর অসাধু মৎস্যজীবী অবৈধভাবে আড়বাঁধ, বেড়জাল, কারেন্ট জাল দিয়ে মৎস্য শিকার করায় নদীতে উৎপাদিত সব ধরনের মাছের পোনাসহ মাছ নিধন হয়ে যাচ্ছে। ফলে ফটকীর দুই পাড়ের প্রায় সহস্রাধিক জেলে পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা।

সম্প্রতি এলাকা ঘুরে জানা গেছে, এককালের স্রোতস্বিনী নদী ফটকীর এখন মৃতপ্রায় অবস্থা। নদীর প্রবহমান যে অংশটুুকু এখনো সতেজ রয়েছে সেখানে আড়বাঁধ, বেড় জাল, কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে মাছ ধরায় সব ধরনের মাছের বংশ বিস্তারে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে কৈ, শিং, পুঁটি, টেংরা, মাগুর, পাবদা, বাইন, মলা, ঢেলা, রয়না, পাকাল, চাঁদা, শৈল, মায়া, রুই, কাতলসহ সব ধরনের মাছের পোনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হওয়ায় দিন দিন এসব মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যদিও নদীতে সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন জায়গায় অভয়াশ্রম স্থাপন করে প্রতিবছর মাছের পোনা অবমুক্ত করেই দায়িত্ব পালন করে থাকে মৎস্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। যার এক আনাও মৎস্যজীবীদের উপকারে আসে না। বরং লাভ হয় আমলা ও দালালদের।

অন্যদিকে একশ্রেণীর অসাধু নামধারী মৎস্যশিকারি সরকারি আইন অমান্য করে ফটকী নদীতে দীর্ঘদিন ধরে আড়বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করে চলেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে বাঁধ অপসারণ করলেও পুনরায় আড়বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করে চলেছে। ফলে উপজেলা প্রশাসন নিরুপায় হয়ে পড়েছে। আড়বাঁধের সঙ্গে কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে ডিমওয়ালা মাছ থেকে শুরু করে ছোট পোনামাছ নিধন করছে।

নদীতে প্রায় কয়েকশ অসাধু মৎস্যশিকারি নিয়মিত কারেন্ট জাল, ছোট ছোট আড়বাঁধ, ভেশাল জালসহ বিভিন্ন প্রকারের যন্ত্র ব্যবহার করছে যা মাছের বংশ বিস্তারের জন্য ক্ষতিকর। অথচ এ অঞ্চলে দেশীয় জাতের মাছ চাষের তেমন কোনো উদ্যোগ না থাকায় নদী-নালা, খাল-বিল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এসব মাছ। চাহিদা বাড়লেও ক্রমেই কমে আসছে দেশী মাছের জোগান। বাজারে দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে এ জাতীয় মাছ।

চলতি বছরে মৎস্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে যেসব মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে তা পানি নষ্টের কারণে মারা গেছে। আর অল্প কিছু মাছ জীবিত থাকলেও তা কারেন্ট জালে মারা পড়ে গেছে বলে এলাকার মৎস্যজীবীরা জানান। তারা আরো জানান, বর্তমানে নদী-নালা, খাল-বিলে পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ না থাকায় প্রকৃত মৎস্যজীবীরা এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, মাগুরা-শালিখা উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ফটকী নদীর আয়তন ২২৮.৮২ বর্গকিলোমিটার। এছাড়া শুধু শালিখা উপজেলায় পুকুরের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৪৩টি এবং এর আয়তন ৩২৩.১৭ হেক্টর। বিল ২৫টির আয়তন ৯০.৫০ হেক্টর। মোট খাল ২০টি, যার আয়তন ৩০৩ হেক্টর। প্রতিবছরের মতো চলতি বছরেও মৎস্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ বৃহৎ জলাশয়ে ২ হাজার ৫২৮ কেজি বিভিন্ন প্রকারের মাছের পোনা অবমুক্ত করেছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, দেশী মাছ সংরক্ষণের জন্য কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধ করা, মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা, অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় সংরক্ষণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তর কাজ করে চলেছে। নদী-নালা, খাল-বিল শুকিয়ে দেশী মাছের আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। খাল-বিলের পানি সেচকাজে ব্যবহার করে খাল-বিলে আবাদ করা হচ্ছে। খাল-বিল সংরক্ষণ না করলে একদিন এ এলাকা মৎস্যশূন্য হয়ে পড়বে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের ২৬০টি প্রজাতির মিঠাপানির মাছের মধ্যে ১২টি জাত সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। প্রাকৃতিক জলাশয়, মুক্ত জলাশয় অনৈতিক ব্যবহার মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশ বিস্তারে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কীটনাশক ও অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারও এর জন্য দায়ী। দেশী মাছ সংরক্ষণ করার জন্য মিনি পুকুর তৈরি করা, প্রজনন মৌসুমে মাছ না ধরা ও রুই জাতীয় মাছের সঙ্গে দেশী জাতের মাছ চাষ করা জরুরি। তা না হলে একদিন দেশী জাতের মাছ সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

August ২০২২
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

August ২০২২
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
%d bloggers like this: