বাংলাদেশ দিনে দুই পরীক্ষা, প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশ্ন

দিনে দুই পরীক্ষা, প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশ্ন

Untitled-17y87ন্যাশনালডেস্কঃ পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও সরবরাহ, পরীক্ষার মধ্যে কোন গ্যাপ না রেখে দিনে দুটি পরীক্ষা গ্রহণের কথা ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর আগামী পাবলিক পরীক্ষায় এ পরিবর্তন নিয়েই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

চলতি বছরের এইচএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ বলেন, অনেক দিন পরীক্ষা নেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আপনারা নিশ্চিত থাকুন, পরীক্ষার মাঝে বন্ধ ছাড়া কোনো গ্যাপ থাকবে না। স্বল্প সময়ের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

পাশাপাশি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।তিনি বলেন, প্রশ্নের নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার, তা আমরা করবো।
প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে পাবলিক পরীক্ষা আইনে শাস্তি বর্তমানে যথেষ্ট নয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই শাস্তি কীভাবে আরো বাড়ানো যায়, তার চিন্তা করবো।

এ বছরের এইএচএসসি পরীক্ষার ইংরেজি দ্বিতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় তা স্থগিত করে। পরদিন ১০ এপ্রিল তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সোহরাব হোসাইন।
শিক্ষামন্ত্রীর কাছে গত ২৯ জুন পর্যবেক্ষণ, সুপারিশসহ কমিটি ১২৬ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পর আমরা ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন প্রশ্নে সারাদেশে পরীক্ষা নিই। এছাড়া ঢাকা বোর্ডের গণিত দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষাও স্থগিত করে নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।

অন্য দুটি পরীক্ষার প্রশ্নের ব্যাপারে অভিযোগ উঠলে, সে দুটিও নতুন প্রশ্নে নেওয়া হয়। তবে ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্নপত্রের ফাঁসের কোনো উৎস খুঁজে পায়নি তদন্ত কমিটি।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ফরিদপুরে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে নিয়েই উৎস খোঁজা হচ্ছে। আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিয়ে উৎস বের করবো।

তদন্ত কমিটি সুনির্দিষ্টভাবে চারটি ছাড়াও বেশ কিছু সাধারণ সুপারিশ করে। সুনির্দিষ্ট সুপারিশের মধ্যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা কথা বলা হয়েছে। এজন্য সফটওয়ার নিয়ন্ত্রিত প্রশ্ন প্রণয়ন এবং একটি ‘প্রশ্নব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়।

এ পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড, বায়োমেট্রিকস ও ইউজার একসেস কার্ড- এ তিন স্তরের নিরাপত্তার সুপারিশ উঠে এসেছে।

প্রযুক্তির ব্যবহার করেই প্রশ্নব্যাংক থেকে পরীক্ষা শুরুর আগে যথাসময়ে প্রশ্ন ছাপাতে হবে। বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র পাঠানোর পর প্রযুক্তির ব্যবহার করেই তা কেন্দ্রে খোলার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

কমিটির সাধারণ সুপারিশের মধ্যে বোর্ডভিত্তিক ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণ, দিনে দুটি করে পরীক্ষা নেওয়া বা এক নাগাড়ে শেষ করা, পাবলিক পরীক্ষার বিষয় সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে এনে অনধিক পাঁচটি বিষয়ের সমন্বিত প্রশ্ন তৈরি ও এমসিকিউ প্রশ্নে নম্বর কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে।

কমিটির প্রধান বলেন, দীর্ঘ সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ এবং বেশি জনবলের ব্যবহারের ফলে প্রশ্ন ফাঁসের সুযোগ থাকে। প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রশ্ন প্রণয়ন ও দ্রুত পরীক্ষা শেষ হলে ঝুঁকি এড়ানো যাবে।তদন্ত কমিটি পাবলিক পরীক্ষা আইনের শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে কঠোরভাবে তা প্রয়োগ ও ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছে।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে ১০ বছর জেল থাকলেও পরে তা চার বছর করা হয়েছে। আইনে সাজার পরিমাণ কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি।

এ সব সুপারিশ বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, প্রযুক্তিবিদ, শিক্ষাবিদসহ সবার মতামত নিয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করার মতামত দিয়েছে কমিটি।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ১১ লাখ ৪১ হাজার ৩৭৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের জন্য ৫৫টি বিষয়ে দ্বিগণ প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়েছে। এই প্রশ্নপত্র ২ হাজার ৩৫২টি কেন্দ্র এবং ৮ হাজার ১০৪টি ভেন্যুতে পাঠাতে হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এত বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য প্রশ্নপত্র ছাপানো, পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সবার সহযোগিতা নিয়ে এবার পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনবো।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাসচিব মোহাম্মদ সাদিক, অতিরিক্ত সচিব তদন্ত কমিটির প্রধান সোহরাব হোসাইনসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নভেম্বর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« অক্টো    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

মাগুড়া সদর

ফেসবুকে আমরা