আজকের পত্রিকাtitle_li=শ্রীপুর “শ্রীপুরের দু:খ” কুমার নদ

“শ্রীপুরের দু:খ” কুমার নদ

মাগুরানিউজ.কমঃ জয় মিত্র –

শ্রীপুরের ওপর বিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী কুমার নদ এখন পরিনত হয়েছে ফসলি জমিতে। সংস্থার বা খনন কার্যক্রমের অভাবে এবং কতৃপক্ষের গাফিলতির কারণে বিস্তৃত এলাকা জুড়ে এখন শুধু চর। আর সেখানে চলছে ফসল উৎপাদন। কুমার নদে জেগে ওঠা চর অপসারণ সম্ভব না হওয়ায় নৌ চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি তীরবর্তী অনেক এলাকায় ফসলী জমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। হুমকির মুখে পড়েছে মাছের উৎপাদন, অন্যদিকে ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। কুমার নদের পাড়ে শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল, খামারপাড়া, গাংনালিয়া, টেংঙ্গাখালী, কাজলী, মধুপুর, মুচিখালি ও আবালপুর বাজারসহ বিভিন্ন গ্রাম অবস্থিত।

শ্রীপুর উপজেলার প্রবীণ ব্যক্তিরা মাগুরা নিউজকে বলেন, একসময় কুমার নদ ছিল উপজেলার মানুষের প্রাণ। উপজেলার কয়েক লক্ষ মানুষের জীবন যাত্রায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করতো। স্রোতস্বিনী এই নদে লঞ্চ, স্টিমারসহ বড় বড় পানসি নৌকা চলাচল করতো। নদের দুই পাড় দিয়ে ছিল বড় বড় হাট বাজার। নৌ চলাচলের মাধ্যমে এসব হাট-বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য চলতো। এখানে এক সময় মাছের প্রাচুর্য ছিলো। এ ছাড়া অনেকেই এই নদের ওপর নির্ভর করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু এটিকে এখন আর নদ বলা যায় না।

তারা আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে নদটি তার জৌলুস হারাতে শুরু করে। বিশেষতঃ নদের বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ দেওয়া, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় নদটি তার নাব্যতা হারিয়ে শুকিয়ে গেছে। নদে জাগা চরে এখন চাষ হচ্ছে ধান, সরিষাসহ রবিশস্য। ফলে নদটি এখন যেমন গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছে তেমনি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।  জরুরিভাবে নদটি খনন না করলে ভবিষ্যতে এর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন নদের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় নদের তলদেশের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে কিছু দিন পানি থাকলেও বছরের অধিকাংশ সময় শুকিয়ে থাকে। এ ছাড়া নাব্যতা সংকটের কারণে কুমার নদ তীরবর্তী ফসলী জমির সেচ কর্যক্রমও হুমকির মুখে পড়েছে।

নদের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ না থাকায় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনেক এলাকায় হেঁটে নদ পারাপার হচ্ছে মানুষ। এক সময়ে খরস্রোতা এ নদে নৌ চলাচল না করায় এর ওপর নির্ভর করে চলা ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার পাশপাশি কমেছে মাছের উৎপাদন। অনেক জেলেরা সংসার চালাতে বেছে নিয়েছেন ভিন্ন পেশা।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নদ তীরবর্তী এলাকায় প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমি নদের পানির সেচের ওপর নির্ভরশীল। নদটি খনন করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে নাব্যতা বৃদ্ধি পেয়ে নৌ পরিবহন খাতে বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে। এ ছাড়া নদে থাকা পানি তীরবর্তী এলাকার মানুষ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করার সুযোগ পাবে।

ছবি- কুমার নদের কাজলী খেয়া ঘাট এলাকা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জুলাই ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

মাগুড়া সদর

ফেসবুকে আমরা

Pages

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

জুলাই ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

রাজনীতি

অর্থনীতি

Categories