আজকের পত্রিকাtitle_li=শালিখা হাঁফ ছেড়ে বাঁচার অপেক্ষায় পুরো দক্ষিণবঙ্গ

হাঁফ ছেড়ে বাঁচার অপেক্ষায় পুরো দক্ষিণবঙ্গ

মাগুরানিউজ.কমঃ

রাজীব মিত্র জয়-

মাগুরার সীমাখালীর চিত্রা নদীতে ভেঙে পড়া সেতুটির পাশে আপাতত বেইলি সেতু হচ্ছে। কাজ পেয়েছে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে এখনো কার্যাদেশ না পেলেও তারা নির্মাণসামগ্রী ফেলতে শুরু করেছে। সেতুর পাশে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা চলছে।

মাগুরা-যশোর মহাসড়কের এ সেতুটি গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ভেঙে পড়ে। ঘটনার সময় এর ওপরে ছিল পণ্যবাহী দুটি ট্রাক ও একটি পিকআপ। এগুলোর ওজন ছিল সেতুটির ভারবহন ক্ষমতার প্রায় ১০ গুণ বেশি। সেতুটি ভেঙে পড়ায় দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কপথে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন এ সড়কপথে চলাচলকারী যাত্রীরা।

সেতুটি ভেঙে পড়ার পর ইতিমধ্যে দেড় মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। অথচ ঘটনার পর পরিদর্শনে আসা সওজসহ সরকারের একাধিক দপ্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা দুই সপ্তাহের মধ্যে মাগুরা-যশোর মহাসড়কে যোগাযোগব্যবস্থা সচলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পাশাপাশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার লেনের কংক্রিটের সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুন্নবী তরফদার জানিয়েছেন, ভেঙে পড়া সেতুর পাশে ৪০ মিটার অর্থাৎ প্রায় ১৩৫ ফুট লম্বা দুই লেনের একটি বেইলি সেতু ও বাইপাস সড়ক তৈরি করা হচ্ছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। দেড়-দুই বছরের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে এ বেইলি সেতু করা হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে সেখানে কংক্রিটের চার লেনের স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হবে। এখন কংক্রিটের সেতুর জন্য মাটি পরীক্ষা ও নকশা তৈরির কাজ চলছে।

মঙ্গলবার গিয়ে দেখা গেল, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা আশপাশের ঝোপঝাড়, আগাছা কাটছেন। কিছু কিছু মালামাল সেতুর পাশে এনে জড়ো করা হয়েছে। নির্মাণকাজ শুরুর বড় প্রস্তুতি চলছে। সেতুর উত্তর ও দক্ষিণ পাশে ড্রেজার লাগিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে।

সওজ সূত্র জানায়, বেইলি সেতু ও বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য কাজ পেয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো মাগুরার মেসার্স শেখ মো. হারুন অর রশীদ, খুলনার এইচ অ্যান্ড আর এবং নড়াইলের লাবণী এন্টারপ্রাইজ। ১৬ মার্চ দরপত্রের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কার্যাদেশের জন্য কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো অনুমোদন আসেনি।

এ সড়কপথে ঢাকা থেকে যশোর, বেনাপোল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরাগামী যানবাহন চলাচল করে। সেতু ভেঙে পড়ার পর যানবাহনগুলো ঝিনাইদহ হয়ে অতিরিক্ত ৩৪ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাওয়া-আসা করতে বাধ্য হচ্ছে। সীমাখালীর ৪ কিলোমিটার দূরে বড়খুদড়ার ছোট সেতু পার হয়ে ছোট ছোট কিছু যানবাহন চলাচল করছে। কিন্তু কদিনেই সড়কটি ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

আর ভেঙে পড়া সেতুটির পাশে তৈরি করা দুটি সাঁকো দিয়ে এখন পথচারীরা চলাচল করছেন। সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, ভ্যানও চলতে দেখা গেল। বাঁশের সাঁকো দুটির একটি সওজ এবং অপরটি স্থানীয় ছাত্রলীগ তৈরি করে দিয়েছে।

দেরিতে হলেও বেইলি সেতুর কাজ শুরু হওয়ায় অনেকে স্বস্তির কথা জানালেন। জানালেন, সেতুটি হলে মানুষ হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« আগ    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০

মাগুড়া সদর

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« আগ    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০

রাজনীতি

অর্থনীতি