আজকের পত্রিকাtitle_li=খেলাধুলা শিরোপা অধরাই থাকল মেসির

শিরোপা অধরাই থাকল মেসির

মাগুরানিউজ.কমঃ

Messi1

মারাকানার মেসি আর সান্তিয়াগোর মেসির মধ্যে কোনও পার্থক্যই থাকল না। ম্যাচ শেষে দু’জনেরই মাথা নীচু। দু’জনেরই মুখে সেই বিষাদ। দু’জনেরই চোখে জল। যেন অনেক কাছে গিয়েও অনেক দূরে চলে যেতে হ‌ল। যেন সর্বস্ব দিয়েও সর্বহারা হয়েছেন।

টাইব্রেকারে জিতে তখন গোটা চিলি দল উত্সবে মত্ত। এক দিকে ভিদাল চিত্কার করছেন, ‘‘ভামোস চিলি’’।  আর এক দিকে আবার ভারগাস-সাঞ্চেজরা লাফাচ্ছেন।  এক কোণে তখন দাঁড়িয়ে রয়েছেন মেসি। কে বলবে ঠিক এক মাস আগেই জুভেন্তাস আর বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল শেষে মেসি মজে ছিলেন উত্সবে আৱ ভিদালের মুখে ছিল ব্যর্থতার ছাপ। 

বাকি সতীর্থরা যখন কোচ মার্টি‌নোর সঙ্গে কথা বলছেন, মেসি তখন চুপ। রানার্স আপ মেডেল‌ নিতে মঞ্চে উঠলেন। তার পর সোজা টানেলে ঢুকে ড্রেসিংরুমে।   ভাবছিলেন হয়তো যদি পেনাল্টিটা না ফস্কাতো বানেগা ও ইগুয়াইন। যদি ম্যাচের শেষ‌লগ্নে ইগুয়াইনের শটটা নেটের ধারে না লাগত। চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল তিনি কতটা মরিয়া ছিলেন দেশের হয়ে ট্রফি জিততে। বিশ্বকাপ ফাইনালের পরে যখন তাঁকে গোল্ডেন বল‌ দেওয়া হয়েছিল মেসি বলেছিলেন, ‘‘আমাকে কোনও কিছুই সান্ত্বনা দিতে পারবে না।’’ এ দিন মুখে হয়তো কিছু বললেন না তবে তার হাবেভাবে সেটাই বুঝিয়ে দিলেন। যা দেখে মনে হল যেন ব্যালন ডি’অৱ দিলেও তাঁর এই ব্যর্থতা মুছতে পারবে না।

 ২০১৫  মেসির জন্য স্বপ্নের মতোই কেটেছে। প্রথমে লা লিগা। তার পর কোপা দেল রা। সবশেষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে স্প্যানিশ ত্রিমুকুট। তাই সবার মনে হয়েছিল কোপা জিতে এক অনন্য নজির গড়বেন মেসি। মরসুমের ক্লাইম্যাক্সটাও স্মরণীয় করে রাখবেন। কিন্তু সেটা যে কোনও ট্র্যাজেডির থেকে কম ছি‌ল না। দেশের জার্সিতে আর এক যন্ত্রণার মুহূর্ত উপভোগ করতে হল তাঁকে। তিন বারেও কোপা ভাগ্য খুলল না মেসির। এখন প্রশ্ন একটাই, ফাইনাল ম্যাচে খেলতে পারেন না কেন মেসি? রিওয়াইন্ড কর‌ল‌ে দেখা যাবে বিশ্বকাপেও এক ছবি দেখা গিয়েছিল। গ্রুপ পর্বে গোলের পর গোল। নক আউটে অসংখ্য গো‌লের পাস। অথচ ফাইনালে অদৃশ্য। কোপাতেও হল এক। করলেন একটা গোল ঠিকই। তবে নক আউট পর্বে অনবদ্য ফর্মেই ছি‌লেন। এক প্রকার ছেলেখেলা করেছিলেন বিপক্ষ ডিফেন্সকে নিয়ে। প্যারাগুয়ে ম্যাচেও তো তিনটে গোলের পাস। তা হলে ফাইনালে চিলির বিরুদ্ধে কী হল সেই মেসির। কোথায় আর্জেন্তিনা পেল সেই মেসিকে যে নাকি বার্সেলোনাকে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন। হতে পারে তাঁকে মুভমেন্ট করার কোনও জায়গা দে‌ননি চিলি কোচ জর্জ সামপাওলি। হতে পারে তাঁকে শান্ত রাখতে জোনাল মার্কিং ছাড়াও কড়া ট্যাকল করল চিলি প্লেয়াররা। কিন্তু মেসির বিরুদ্ধে এমন ছক নতুন কিছু নয়। তাতেও কি তাঁকে কেউ আটকাতে পারে। তবে এ দিন  মেসিকে দেখে সেই ভয়টাই তো ছিল না চিলির মধ্যে। শুরুর থেকে শেষ যেন আরাম করেই মেসিকে আটকে রাখল চিলি। উইংয়ে ঠাই না পেয়ে ডিপ মিডফিল্ড থেকে খেললেন। তবুও গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না। আৱ দি’মারিয়া চোট পেয়ে বসে যাওয়ার কারণে আরও সমস্যায় পড়তে হল এলএম টেনকে। প্রথমার্ধে যাও চেষ্টা করলেন। বিরতির পরে তো হারিয়েই গেল সেই বিশ্বমানের প্রতিভা। যাঁর ম্যাজিক দেখতে অপেক্ষায় ছিল গোটা বিশ্ব।   

আর্জেন্তিনা অধিনায়ক বল প্লেয়ার। যত বেশি বল পাবেন তত বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবেন। এ দিন সেই ব‌লটাই পেল কোথায়। বরং যত বার ভাল জায়গা পেয়েছি‌লেন কোনও সাপোর্ট না পাওয়ায় কিছুই করতে পারেননি।

ফুটবলে কথাই আছে, ‘‘অবিশ্বাস্য কিছুই নয়।’’ মেসির ক্ষেত্রেও সেটাই প্রযোজ্য। যত বার তিনি মাঠে নামেন তত বার সবার আশা থাকে কিছু একটা নিশ্চয়ই করবেন যা আগে কখনও ফুটবল মাঠে দেখা যায়‌নি। কোপা হারের পরে সবাই হয়তো আঙুল তুলবে মেসির দিকেই। বলবে, ‘মেসির জন্যই জিততে পারল না আর্জেন্তিনা।’ কি‌ন্তু ভুলে গেলে চলবে না ব্যক্তিগত প্রতিভা যতই বড় হোক না কেন, ফুটবল যে দলগত খেলা।  পেলেরও দরকার পড়েছিল‌ একটা গ্যারিঞ্চাকে। ব্রাজিলের রোনাল্ডোরও দরকার পড়েছিল একটা রোনাল্ডিনহোকে। কিন্তু এই মেসির পাশে যে কেউ ছিল না। দি’মারিয়া ছাড়া বাকিরা তো মেসির মুভমেন্ট বুঝতেই গোটা টুর্নামেন্ট কাটিয়ে দিল। ‘মেসির ঘাড়ে সব চাপিয়ে দেওয়া’ মানসিকতা নিয়ে সব সময়ই বিপদ ডেকে এনেছিল আর্জে‌ন্তিনা। ফাই‌নালে গিয়ে আর পার পেল না ‌জেরার্দো মার্টিনোর দল। তাই শেষ পর্যন্ত পেলে, মারাদোনার মতো কিংবদন্তিদের কোপা না জেতার তালিকা থেকে নিজের নামটা তুলতে পারলেন না মেসি। 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মে ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« এপ্রি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

মাগুড়া সদর

ফেসবুকে আমরা

Pages